গাজার সবচেয়ে বড় হাসপাতাল আল-শিফার নিচে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতকামী সংগঠন হামাসের সুড়ঙ্গ খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছিল ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। তবে ইসরায়েলের এ দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মুনির এল-বুরশ বলেন, সুড়ঙ্গ খুঁজে পাওয়ার ইসরায়েলের দাবি সর্বৈব মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, তারা গাজার দক্ষিণে আল-শিফা হাসপাতাল থেকে ইউরোপীয় এবং নাসের হাসপাতাল থেকে ৩১টি নবজাতককে সরিয়ে নিয়েছে। হাসপাতালে এখনও দুই শতাধিক রোগী আটকা রয়েছেন।
এর আগে ইউরো-মেডিটেরানিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটর নামের একটি গ্রুপ আশঙ্কা করেছিল যে গাজার বৃহত্তম হাসপাতাল আল-শিফা কমপ্লেক্সে প্রবেশ করার পর ইসরাইলি বাহিনী বানোয়াট কাহিনী ফাঁদতে পারে।
গত বুধবার সকালে ইসরাইলি বাহিনী হাসপাতালটির ভেতরে প্রবেশ করেছে। এরপর থেকে তারা হাসপাতালের ভেতরের সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা সেখানে নিরপেক্ষ কোনো পর্যবেক্ষক নেয়নি। ফলে সেখানে হামাসের কথিত সামরিক তৎপরতার কোনো কাহিনী বলা হলে তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছে ইউরো-মেডিটেরানিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটর।
এদিকে উত্তর গাজার বেশ কয়েকটি এলাকা লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনী এখনো বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। গত ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এ বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত ১৩ হাজারেও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। অন্যদিকে হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল সরকার।
মার্কিন বেসরকারি সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট জানিয়েছে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪৮ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪৩ জন ফিলিস্তিনি, চারজন ইসরায়েলি এবং একজন লেবানিজ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গতকাল রোববার লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের পণ্যবাহী একটি কার্গো জাহাজ জব্দ করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। একই সঙ্গে বেশ কয়েকজন ক্রুকে জিম্মি করার দাবি করেছে। এতে সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে ইসরায়েলে এ দাবি অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, জাহাজটি ব্রিটিশ মালিকানাধীন এবং পরিচালনা করছিল জাপানি একটি কোম্পানি। এতে কোনও ইসরায়েলি ক্রু ছিলেন না।