বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে তেহরান, ক্ষতিগ্রস্ত চিকিৎসাসেবা

ইরানের রাজধানী তেহরানে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হচ্ছেন সাধারণ নাগরিকেরা। বিদ্যুতের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কল-কারখানা, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। কাজ না করতে পারার কারণে ঠিকমত বেতনও পাচ্ছেন না শ্রমিকেরা।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার রয়েছে ইরানে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য তেলসমৃদ্ধ দেশের মতো ইরানের অর্থনীতিও খনিজ সম্পদের  উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। 

নিজেদের সম্পদে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও রাজধানী তেহরানের ছোট ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা নিয়মিত সম্মুখীন হচ্ছেন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক কারখানায় বন্ধ থাকছে কাজ, কমছে আয়।

ইরানের কারখানার শ্রমিক আজিজুল্লাহ মালাকি বলেন, ‘আমাদের বিদ্যুতের ঘাটতি দিনদিন আরও খারাপ হয়ে উঠছে। আবাসিক এলাকায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবাহের জন্য শিল্পেকারখানায় এর ব্যবহার ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হচ্ছে। বিদ্যুতের অভাবে অনেকসময় কাজ পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হয়। তখন আমরা বেতনও ঠিকমত পাই না।’

এই সমস্যার জন্য সাধারণ নাগরিকরা দুষছেন জ্বালানি অবকাঠামোতে বিনিয়োগের ঘাটতি, প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন হ্রাস ও অদক্ষ ব্যবস্থাপনাকে। 

ইরানের জেনারেটর দোকানের কর্মী আমির হোসেন বামিলি বলেন, ‘অক্সিজেন এর উপর নির্ভরশীল রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হয়।  একটি জেনারেটর স্বাভাবিক দামের চেয়ে প্রায় ৩ গুন বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।  ইরানের মতো একটি দেশে যেখানে পানি, গ্যাস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে, সেখানে বিদ্যুৎ বিভ্রাট কিভাবে সম্ভব?’

জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ইরান ৯৪ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে থাকে। পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বায়ু ও সৌরশক্তি ব্যবহার করে ইরান খুবই নগণ্য বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারছে। এছাড়াও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশের বাইরে থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে সুবিধা করতে পারছে না তেহরান।