ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১২ কিলোমিটার। তবে এতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ্যা ইনস্টিটিউটের ভূকম্পন নেটওয়ার্কের তথ্য বলছে, ইরানজুড়ে ৩ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত এক সপ্তাহে ৮৩টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে তিনের কম মাত্রার ৭১টি, তিন থেকে চার মাত্রার ১০টি এবং চার থেকে পাঁচ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে।
ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০টি কম্পন অনুভূত হয় খোরাসান রাজভি প্রদেশে। এরপর সেমনান, কেরমান ও ফারস প্রদেশে ৮টি করে এবং মাজানদারানে ৭টি কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানী তেহরানেও ৩টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
হঠাৎ এই ঘন ঘন ভূকম্পনের পর বিশ্লেষকদের কেউ কেউ ধারণা করছেন, গোপনে পরমাণু স্থাপনায় পরীক্ষা চালানোর জন্য এই ভূকম্পন অনুভূত হয়ে থাকতে পারে। কারণ খুজেস্তানে রয়েছে ইরানের পরমাণু স্থাপনা। অন্যদিকে পরমাণু কেন্দ্র না থাকলেও সামরিক তৎপরতার কেন্দ্রবিন্দু খোরাসান। এর আগে ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত এক বছরে দেশটিতে ২ হাজার ৩৮০টি কম্পন অনুভূত হয়।
বিশ্বের অত্যন্ত ভূকম্পন-সক্রিয় অঞ্চলে অবস্থিত পারস্য মালভূমি। কেবল বিধ্বংসী ভূমিকম্পের জন্যই নয়, বরং প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে ভূমিকম্প সম্পর্কিত বিপর্যয়ের জন্যও ইরান পরিচিত। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ২ শতাংশ সংঘটিত হয় ইরানে। আর বিংশ শতাব্দীতে বিশ্বজুড়ে সংঘটিত ভূমিকম্পে হতাহতের ৬ শতাংশের বেশি ঘটেছে এই দেশটিতে।


ইরানে ঘন ঘন ভূমিকম্প, প্রাকৃতিক নাকি গোপন পারমাণবিক পরীক্ষা?
