গাজা নিয়ে পরিকল্পনা দিলেন ইয়াসির আরাফাতের ভাতিজা

যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন পরিকল্পনা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতের ভাতিজা নাসের আল-কুদওয়া। যেখানে হামাসকে রাজনৈতিক দলে রূপান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন, গণতান্ত্রিক সংস্কার ও ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন।

চার বছর পর স্বেচ্ছা নির্বাসন ভেঙে সম্প্রতি পশ্চিম তীরে ফিরেছেন ফিলিস্তিনি নেতা ও প্রয়াত ইয়াসির আরাফাতের ভাতিজা নাসের আল-কুদওয়া। তিনি ফাতাহ আন্দোলনের শীর্ষ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।

২০২১ সালে নিজস্ব প্রার্থী তালিকা দেওয়ায় দল থেকে বহিষ্কৃত হন কুদওয়া। তবে সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট আব্বাসের সাধারণ ক্ষমার পর তিনি আবারও দলে ফিরেছেন।

যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন এক রূপরেখা দিয়েছেন কুদওয়া। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, হামাসকে একটি রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নাসের আল-কুদওয়া বলেন, ‘গাজায় এখনো অনেক কাজ বাকি আছে। হামাসের সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিয়ে সমঝোতা দরকার। পাশাপাশি এমন একটি নতুন প্রশাসনিক সংস্থা গঠন করতে হবে, যা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকবে।’

আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধান গ্রহণযোগ্য হলেও গাজা শাসন করবেন কেবল ফিলিস্তিনিরাই— বলেন কুদওয়া।

তিনি আরও বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের ওপর কোনো পশ্চিমা প্রশাসক চাপিয়ে দেওয়া হবে না। আমাদের স্বাধীনতার জন্য আমরা মূল্য দিয়েছি, তাই ফিলিস্তিনিরাই নিজেদের শাসন করবে।’

দুর্নীতি দমন ও জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে গণতান্ত্রিক সংস্কার অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন প্রভাবশালী ফাতাহ নেতা। তার প্রত্যাবর্তন এমন সময় হলো যখন গাজা যুদ্ধের অবসানের ঘোষণা দিয়ে নতুন প্রশাসনিক পরিকল্পনা উত্থাপন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আরব দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, হামাসের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আরাফাতের ভাতিজা হিসেবে মর্যাদার কারণে কুদওয়া গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।