ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরার একজন ক্যামেরাম্যান ও অন্তত একজন শিশুসহ কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও উদ্ধারকারীদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
শনিবার মধ্য গাজার একটি বাড়িতে হামলায় নিহত হন আল জাজিরার আহমেদ উইশাহ। এ হামলাকে জঘন্য অপরাধ আাখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আল জাজিরা।
ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) উইশাহকে হামাসের সামরিক শাখার একজন সন্ত্রাসী ও স্নাইপার হিসেবে অভিযুক্ত করেছে।
গাজার হামাস-পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ১০০৭ জনকে হত্যা করেছে।
আল জাজিরা বলেছে, শনিবার উইশাহর মৃত্যু সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির একটি নতুন এবং সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করা ও সত্যের কণ্ঠরোধ করার একটি ধারাবাহিক পরিকল্পিত নীতির প্রতিফলন।
এদিকে আইডিএফ বলেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উইশাহ ইসরায়েলি সৈন্যদের বিরুদ্ধে উন্নত স্নাইপার হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন।
একটি স্থানীয় হাসপাতাল এবং হামাস-পরিচালিত বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা, যারা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে, তাদের মতে, বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের একটি বাড়িতে হামলায় উইশাহর সাথে আরও দুজন নিহত হয়েছেন।
আইডিএফ নিহত অন্য দুজনকেও হামাসের সদস্য বলে অভিযুক্ত করেছে।
উইশাহর ভাই মোহাম্মদ আল জাজিরার একজন সংবাদদাতা ছিলেন। গত এপ্রিলে একটি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন তিনি। আইডিএফ তাকে হামাসের রকেট ও অস্ত্র উৎপাদন সদর দপ্তরে কাজ করার জন্য অভিযুক্ত করেছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
এদিকে, বেসামরিক প্রতিরক্ষা, আত্মীয়স্বজন এবং নিকটবর্তী একটি হাসপাতালের তথ্যমতে, গাজা শহরের সাবরা এলাকায় একটি বাড়িতে রাতভর হামলায় একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন।
শিফা হাসপাতাল সংবাদ সংস্থাগুলোকে জানিয়েছে, তারা দুই শিশুসহ পরিবারের সদস্যদের মৃতদেহ গ্রহণ করেছে। চিকিৎসকরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই হামলায় নিহতদের মধ্যে দুজন নারী ও একজন শিশু রয়েছে।



