ইরানের এক সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে আজ জানিয়েছেন, ইরানে দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন! বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মিলিয়েই এত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি, তবে এই নিহতের সংখ্যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য কতজন আর বিক্ষোভকারী কতজন সেটা আলাদা করে জানাতে পারেননি।
এত মানুষের মৃত্যুর খবর এমন এক সময়ে সংবাদমাধ্যমে উঠে আসছে, যখন তিন দিন আগেই ইরানের শান্তিতে নোবেলজয়ী নারী শিরিন এবাদি দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ‘বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড’ বা ম্যাসাকারের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন।
ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা ও জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় মাত্রায় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভের মাত্রা দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে, বিক্ষোভকারীরা রাস্তাঘাটে বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করেছেন। ইরানের সরকার বারবারই এই বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাত দেখেছে এবং বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ডের হুমকিও দিয়েছে।
তাতেও বিক্ষোভ যখন দমানো যায়নি, তখন গত ৯ জানুয়ারি ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় ইরানের সরকার। এ নিয়েই তখন ম্যাসাকারের আশঙ্কার কথাটা জানিয়েছিলেন শিরিন এবাদি। ইরানের নারী ও শিশুদের অধিকার, শরণার্থীদের অধিকার এবং গণতন্ত্রের পক্ষে অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৩ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী শিরিন এবাদি তখন আশঙ্কা জানিয়ে বলেছিলেন, যোগাযোগের সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে ইরানের বাহিনী গণহত্যার প্রস্তুতি নিয়ে থাকতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন, যোগাযোগের মাধ্যম টেলিগ্রামে নিজের স্বীকৃত চ্যানেলে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন শিরিন এবাদি। ইরানের বাইরে নির্বাসনে থাকা শিরিন এবাদি এভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে বলেছেন, ‘এটা কোনো কারিগরি ত্রুটি নয়, এটা কৌশল।’
সে সময় শিরিন এবাদি এ-ও জানিয়েছিলেন যে, তাঁর কাছে তথ্য এসেছে যে শয়ে শয়ে বিক্ষোভকারীকে তেহরানে একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যাঁদের বেশিরভাগেরই চোখে গুরুতর জখম ছিল। পুলিশ এয়ারগান থেকে বিক্ষোভকারীদের চোখ লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়েছে বলে তখন ধারণা করা হয়েছিল।
ইরানে শান্তিতে দুই নোবেলজয়ীর একজন শিরিন এবাদি। অন্যজনও নারী – ২০২৩ শান্তিতে নোবেলজয়ী নারগিস মোহাম্মদি। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে নারগিস মোহাম্মদিকে ইরানের পুলিশ আটক করে বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা অভিযোগ করেছিলেন, ইরানের পুলিশ যদিও তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।