বর্তমান ভঙ্গুর আন্তর্জাতিক পরিবেশে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। এক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ সিরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের আতিথ্য দিয়েছে মস্কো। এছাড়া, ইরানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোরও রাশিয়াকে প্রয়োজন। রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি-র বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব মন্তব্য।
২৮ জানুয়ারি রাশিয়া সফর করেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও শারার বৈঠকে আলোচনা হয় দামেস্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
একদিন পরই মস্কো যান সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে উঠে আসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধের ইস্যু। এ সময় তেহরান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের কথা জানান পুতিন।
রুশ গণমাধ্যম আরটি-র প্রতিবেদন বলছে, আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভঙ্গুর পরিবেশে সমন্বয়ের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছে মধ্যপ্রাচ্য। নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে মস্কোকে নির্ভরযোগ্য মনে করছে অনেক দেশ।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে রাশিয়ার সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, এই অঞ্চলের সবচেয়ে সংবেদনশীল রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় জড়িত মস্কো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়ার সম্পৃক্ততা ছাড়া সিরিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও কার্যকর নিরাপত্তা কাঠামো গঠন অসম্ভব।
এদিকে, আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের রাশিয়া সফর নিয়ে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, এ ঘটনা ইঙ্গিত দেয়, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে মস্কোকে নির্ভরযোগ্য অংশীদার মনে করছে আবুধাবি। ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কৃষি ও মানবিক উদ্যোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে যৌথ আগ্রহের প্রতিফলনও দেখা যাচ্ছে এই সফরে।
আরটির প্রতিবেদনের দাবি, ইরানসহ উপসাগরীয় দেশ এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিগুলোর রাশিয়াকে প্রয়োজন।