বাবাকে অনুসরণ করে ধর্মগুরু হওয়ার পথ বেছে নিয়েছিলেন খামেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনি। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম ও ফারস নিউজ এজেন্সি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। 

এতে বলা হয়, ইরানের শাসনব্যবস্থায় অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্র বিষয়ক নীতি নির্ধারণ করেন দেশটির সুপ্রিম লিডার কিংবা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এ দায়িত্ব পালন করেছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ইরানে তিনি যা বলেন, সেটিই ছিল চূড়ান্ত। 

১৯৩৯ সালে ইরানের মাশাদ শহরে জন্ম নেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। বাবাকে অনুসরণ করে তিনিও ধর্মগুরু হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তার স্বপ্নপূরণে বাধা হয়ে দাঁড়ায় শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির শাসনামল। কেননা, পাহলভি ছিলেন একজন ধর্মনিরপেক্ষ শাসক। ধর্মকে প্রাচীন এবং সন্দেহজনক মনে করতেন তিনি। 

চার বছর বয়সে ভাইয়ের সাথে মক্তবে পড়াশোনা শুরু করেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। পরে ভর্তি হন ইসলামিক স্কুলে। প্রাইমারি স্কুল শেষে শুরু করেন আধ্যাত্মিক পড়াশোনা। ১৯৫৭ সালে ইরাকে পড়াশোনা করতে গেলেও বাবার ইচ্ছায় পরের বছর ফিরে আসেন নিজ দেশে।

১৯৬২ সালে যোগ দেন ইমাম খামেনির দলে। এরপর বেশ কয়েকবার রাজনৈতিক কারণে জেলে যেতে হয় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে। ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের সময় খামেনি ছিলেন অন্যতম প্রধান সংগঠক। ইসলামি রাষ্ট্র গঠনে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা এবং বিপ্লবী গোপন নেটওয়ার্ক পরিচালনায় সক্রিয় ছিলেন খামেনি।

১৯৮২ ও ৮৬ সালে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ১৯৮৯ সালে ইমাম খামেনির মৃত্যুর পর ১৯৯০ সালে, মাত্র ৫০ বছর বয়সে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

১৯৮১ সালেই খামেনিকে হত্যার চেষ্টা হয়। সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সময় টেপ রেকর্ডারে লুকিয়ে রাখা বোমার বিস্ফোরণে ডান হাতের কার্যক্ষমতা হারান খামেনি।