ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লেবাননের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় বলছে, আপাতত দক্ষিণাঞ্চলে হলেও এই যুদ্ধবিরতি লেবাননজুড়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলছেন, লেবানন ইস্যুতে তাঁর অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও লেবাননে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
গত ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। তবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও উত্তেজনা থেমে থাকেনি। দুই পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে হামলা ও পাল্টা হামলা চলেছে।
এ সপ্তাহে লেবাননে হামলা জোরদার করে আইডিএফ। গত সোমবার বৈরুতের শহরতলিতে নতুন হামলার নির্দেশ দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগেই এই নির্দেশ দেন নেতানিয়াহু।
লেবাননসহ বিভিন্ন রণক্ষেত্রে হামলা চলতে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা স্থগিত করে ইরান। পরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, নেতানিয়াহু বৈরুতের শহরতলিগুলোতে অভিযান বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। হিজবুল্লাহও সংঘাত বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে লেবাননের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ও। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, আপাতত দক্ষিণাঞ্চলে হলেও এই যুদ্ধবিরতি লেবাননজুড়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলছেন, লেবানন ইস্যুতে তাঁর অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে এবং লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এর আগে সোমবার লেবাননের সমর্থনে তেহরানে জড়ো হন হাজারো ইরানি। এ সময় ইরান ও হিজবুল্লাহর পতাকা নেড়ে বিক্ষোভকারীরা জানান, তেহরানের স্বার্থেই বৈরুতের পাশে রয়েছেন তাঁরা।
গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনে প্রাণহানি ৩ হাজার ৪০০ জন ছাড়িয়েছে। আর আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০ হাজার।