যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির শীর্ষ নেতৃত্ব এই চুক্তিকে ‘আত্মসমর্পণ’ এবং ‘প্রহসন’ বলে আখ্যায়িত করেছে। তাদের দাবি, এই চুক্তির শর্তগুলো কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ ও সামরিক লক্ষ্যই পূরণ করবে।
হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সম্পূর্ণ ও শর্তহীনভাবে প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কোনো স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ আগ্রাসন চলবে, আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে তা মোকাবেলা করব।’
এর আগে গত বুধবার (৩ জুন) মার্কিন মধ্যস্থতায় হিজবুল্লাহর হামলা শতভাগ বন্ধ করার শর্তে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয় ইসরায়েল এবং লেবানন সরকার। তবে এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও চুক্তিতে হিজবুল্লাহর কোনো প্রতিনিধি দল অন্তর্ভুক্ত ছিল না। চুক্তি অনুযায়ী, হিজবুল্লাহকে দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের অস্ত্র ও যোদ্ধা প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছিল, যা মানতে রাজি নয় গোষ্ঠীটি।
চুক্তির মধ্যেই সংঘাত ও হতাহত
যুদ্ধবিরতি চুক্তি আলোচনার টেবিলে থাকলেও বাস্তবে দক্ষিণ লেবানন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। চুক্তি প্রত্যাখ্যানের পর বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে অভিযান তীব্রতর করেছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২৫টি পৃথক হামলার দায় স্বীকার করেছে।
অন্যদিকে, চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরেও লেবাননের অভ্যন্তরে আইডিএফ (ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস) তাদের বিমান ও স্থল অভিযান অব্যাহত রেখেছে। লেবাননের ঐতিহাসিক টায়ার ও নাবাতিয়েহ শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন হামলায় ১ জন নিহত এবং কমপক্ষে ১৪ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের সামরিক বাহিনী এই মুহূর্তে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার বা অভিযান স্থগিত করবে না।
ট্রাম্পের ভিন্ন দাবি
এদিকে মাঠপর্যায়ে হিজবুল্লাহর এই কঠোর অবস্থানের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ভিন্ন দাবি করেছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, হিজবুল্লাহ এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তারা সংঘাত বন্ধের বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। যদিও হিজবুল্লাহর প্রকাশ্যে চুক্তি প্রত্যাখ্যান ও হামলা জোরদার করার ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের এই মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি বিশ্লেষকরা।