ইরান যুদ্ধের ১০০ দিনে চাপে ট্রাম্প, ভুগছে বিশ্ব অর্থনীতি

শততম দিন পূর্ণ করল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত। ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর নামমাত্র যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও চলছে হামলা পাল্টা হামলা। এর ফলে প্রশ্ন উঠেছে যুদ্ধের মূল কলকাঠি নাড়ানো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফলতা নিয়ে। বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যত ও বিশ্ববাসীর ওপর যুদ্ধের প্রভাবের বিশ্লেষণ।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পারমাণবিক ইস্যুতে বৈঠকে বসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। কিন্তু বৈঠক চলাকালীনই ২৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিমুখী আক্রমণের মুখে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী দেশ ইরান। যুদ্ধের ১০০ দিনে পাল্টে যায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণ।

এই যুদ্ধের জেরে একদিকে নিহত হয়েছেন ইরানের শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব। তেমনই বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট হয়ে পড়েছে বিপর্যস্ত। কারণ যুদ্ধবিরতি ঘোষিত ও কার্যকর হলেও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি কমেনি এতটুকুও।

এদিকে যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের মুখে পড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় প্রশ্ন, যে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি যে যুদ্ধের দামামা বাজিয়েছিলেন, তা আদতে কতটুকু সফল হয়েছে?

মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৬ শতাংশ ভোটার মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জয় পেয়েছে। 

এই যুদ্ধ নিয়ে মতবিরোধ দেখা গেছে খোদ ট্রাম্পের রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও। দলের অনেক নেতা-কর্মীই মনে করেন, ইরানে যুদ্ধ করা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর। এতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যত হুমকিতে পড়তে পারে বলেও মত বিশ্লেষকদের।

ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনেও। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে জ্বালানির, বেড়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়। এ কারণে এই যুদ্ধকে এখন আর শুধু পররাষ্ট্রনীতির বিষয় নয় দেখা হচ্ছে বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ হিসেবেও।