ইরানের ওপর আবারও মার্কিন হামলা শুরু হলে এবার যুদ্ধের পরিধি বাড়ানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। রোববার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এমন হুমকি দেন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আব্দুল ফজল শেখারচি। যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের লক্ষ্য অর্জন ও ইরানকে দুর্বল করার মিশনে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল এবং অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে শেখারচি বলেন, যুদ্ধে নতুন কৌশল খুঁজছে ট্রাম্প প্রশাসন। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র চাইলেও ইসরায়েলের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ থেকে বের হতে পারবে না বলে কটাক্ষ করেন ইরানি সেনাবাহিনীর এই মুখপাত্র।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র যতদিন ইরানে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে, ততদিন পর্যন্ত ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা করা থেকে বিরত থাকবে বলে ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
এদিকে আলোচনার সুযোগ দিতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানে হামলা বন্ধ রেখেছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রেসিডেন্ট মাইক ওয়াল্টজ বলেন, ‘আমরা পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে প্রস্তুত। এলক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আরও সামরিক সম্পদ মোতায়েন করা হচ্ছে। তবে তিনি আলোচনার জন্য কিছুটা সময় ও সুযোগ দিচ্ছেন। বিশেষ করে গত কয়েক দিন ধরে ওমানসহ আমাদের আরও বেশ কয়েকজন মধ্যস্থতাকারী সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কারিগরি পর্যায় পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।’
গত জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু এরপর প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন ইরানে হামলা চালিয়েছে। আর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এতে যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ে। তবে গত দুই দিন ধরে ইরানে হামলা বন্ধ রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপ্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য গোলাবারুদের সীমিত মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে, এমন শঙ্কায় হামলা বন্ধ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে নিউইয়র্ক টাইমস।
তবে ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ফুরিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রেখেছে এমন তথ্য ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যে গোলাবারুদ মজুত রয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি।



