এবার ইসরায়েলের বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলা

ইসরায়েলে দ্বিতীয় দফা হামলা চালিয়েছে ইরান। এবার ইসরায়েলের বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্টের আহ্বান উপেক্ষা করেই তেহরানের হামলার জবাব দেয় তেল আবিব। লেবাননে হামলা চালিয়ে বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে গত রোববার রাতে ইসরায়েলে প্রথম ধাপে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর ইসরায়েলে এটাই ইরানের প্রথম হামলা।

একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এক সপ্তাহব্যাপী ধারাবাহিক হামলার সূচনা বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড ক্রপস (আইআরজিসি)। এদিকে পূর্ব সতর্কতা হিসেবে তেহরানের ইমাম খোমেনি বিমানবন্দরে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ফ্লাইট কার্যক্রম স্থগিত করেছে ইরান কর্তৃপক্ষ।

আইআরজিসির মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি বলেন, ‘ইহুদিবাদী হানাদার শাসক লেবাননের নিপীড়িত জনগণের ওপর নৃশংসতা দিন দিন বাড়াচ্ছে এবং নিষিদ্ধ বোমাসহ যুদ্ধাপরাধ চালাচ্ছে। আগেই সতর্ক করেছিলাম, বৈরুতে হামলা বাড়লে আমরা এর প্রতিক্রিয়া জানাব। আমরা তাদের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক আক্রমণ চালাব এবং চূর্ণ-বিচূর্ণ করব।’

ইরানের হামলার কড়া জবাবের হুঁশিয়ারি দেয় ইসরায়েল। পরে এক ফোনালাপে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে হামলার জবাবে ইরানে পাল্টা আঘাত করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এতে প্রথমে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রাজি হন বলে খবর ছড়ায়।

কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই ইরানের রাজধানী তেহরান, তাবরিজ ও ইসফাহানে পাল্টা হামলা চালায় ইসরায়েল। ইরানের মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ইসরায়েল আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আইআরজিসি।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র এফি ডেফ্রিন বলেন, ‘ইরান আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে বেছে নিয়ে এক গুরুতর ভুল করেছে। বৈরুতে আইডিএফের হামলার জবাবে আমাদের ভূখণ্ডে সরাসরি গোলাবর্ষণ চালিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরির চেষ্টা করছে তারা। আমরা তা হতে দেব না। আইডিএফ প্রতিরক্ষা এবং পাল্টা পদক্ষেপের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’

এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল টুয়েলভ’ জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে ইসরায়েল।