মধ্যপ্রাচ্যে কি শুরু হয়ে গেছে এক নতুন মিশন? একটি মিশন, যার লক্ষ্য শুধু পাল্টা হামলা নয়... শুধু ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া নয়... বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য থেকেই আমেরিকার সামরিক উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ করা! একের পর এক মার্কিন ঘাঁটি নিশানায়... কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র... বাহরাইনে ড্রোন হামলার দাবি... জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটির দিকে ব্যালিস্টিক মিসাইল... আর একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন হুমকি! তেহরান এখন এমন বার্তা দিচ্ছে, যেন তারা শুধু একটি যুদ্ধ লড়ছে না—বংশ মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যই বদলাতে চাইছে। আর তাই প্রশ্ন উঠছে, ইরান কি সত্যিই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকাকে হটানোর মিশনে নেমেছে?
গত ২৪ ঘণ্টায় যা ঘটেছে, তা পুরো অঞ্চলকে ঠেলে দিয়েছে নতুন এক বিপজ্জনক মোড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর পরিস্থিতি আরও বিস্ফোরক হয়ে ওঠে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা ‘সেন্টকম’ জানায়, তারা ইরানের একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলা ছিল ‘সেলফ-ডিফেন্স স্ট্রাইক’ বা আত্মরক্ষামূলক হামলা।
কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আসে তেহরানের জবাব। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা ‘আইআরজিসি’ দাবি করে, তারা দুই দফা সামরিক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, কুয়েতের আলি আল-সালেম ও আহমাদ আল-জাবের বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের শেখ ইসা এয়ারবেস তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল। একই সঙ্গে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিটের সদর দপ্তরের বিরুদ্ধে ড্রোন অভিযান চালানো হয়েছে।
বাস্তবতা হলো—পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায়। বাহরাইনে সাইরেন বাজানো হয়েছে। কুয়েতের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। জর্ডানেও একাধিক নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আর এসব ঘটনার মাঝেই ইরানের সামরিক নেতৃত্ব নতুন হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের ভাষায়, মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো মার্কিন আগ্রাসনের জবাব হবে ‘চূর্ণবিচূর্ণ ও সিদ্ধান্তমূলক’।
শুধু তাই নয়, ইরান আবারও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হতে পারে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি শুধু সামরিক বার্তা নয়; এটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার দীর্ঘদিনের সামরিক আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ। কারণ বাহরাইনের ফিফথ ফ্লিট, কুয়েতের বিমানঘাঁটি কিংবা জর্ডানে মার্কিন উপস্থিতি—সবকিছুই এই অঞ্চলে আমেরিকার শক্তির প্রতীক। আর ইরানের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও হামলার দাবিগুলো দেখাচ্ছে, তেহরান সেই প্রতীকগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু বানাতে চাইছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখন আর শুধু সীমান্তের লড়াই নয়। এটি প্রভাবের লড়াই, এটি আধিপত্যের লড়াই। একদিকে আমেরিকা বলছে তারা পিছু হটবে না, অন্যদিকে ইরান বলছে প্রতিটি হামলার জবাব আরও কঠিন হবে। তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়, ইরানের আসল লক্ষ্য কি শুধু প্রতিশোধ? নাকি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকার প্রভাব ও উপস্থিতিকেই ধীরে ধীরে সরিয়ে দেওয়া? তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির খেলা এখন নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।