১২ বিলিয়ন ডলার তহবিল ছাড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে: ইরান

জব্দ ১২ বিলিয়ন ডলার তহবিল ছাড়ের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। সুইজারল্যান্ডে আলোচনায় ভালো সাফল্য এসেছে বলে মত ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের। এদিকে, পারমাণবিক কর্মসূচি পরিদর্শনে ইরান আইএইএকে অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কারিগরি আলোচনা সফলভাবে শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানি স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ গালিবাফ। আলোচনার পরবর্তী পর্যায়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় জব্দকৃত ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার তহবিল ছাড়ের বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে বলে জানান গালিবাফ। ৬০০ কোটি করে দুই ধাপে এই অর্থ পাবে তেহরান।

এদিকে লেবানন প্রসঙ্গে গালিবাফ জানান, সমন্বয়ের জন্য কমিটি গঠনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। এই কমিটি যেকোনো বিরোধ নিষ্পত্তিতে কাজ করবে। এ ছাড়া পুনরায় যুদ্ধ শুরু না হওয়া, বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরা ও ইসরায়েলের দখলকৃত এলাকাগুলো খালি করতে কাজ করবে এই কমিটি।

ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ বলেন, ‘আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন যুদ্ধ এখন থেমে গেছে। অধিকাংশ বাসিন্দা নিজেদের বাড়িতে ফিরেছেন। সেখানে গৃহীত সিদ্ধান্ত দৃঢ়তার সাথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী। লেবানন ভূখণ্ডের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।’

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখন থেকে তেহরান পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছেন ইরানি স্পিকার। প্রণালির তত্ত্বাবধানে একটি সমন্বয় ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। যার মধ্যে একটি হটলাইন ব্যবস্থা ও একটি কমিটি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যেকোনো বিরোধ দেখা দিলে এতে যোগাযোগ করা যাবে।

এদিকে, পারমাণবিক কর্মসূচি পরিদর্শনে ইরান আন্তর্জাতিক আণবিক সংস্থাকে অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ছাড়া সমঝোতা স্মারকের শর্ত মানতে তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান যদি চুক্তি মেনে না চলে বা ঠিকমতো আচরণ না করে, তাহলে যা কিছু করা প্রয়োজন আমরা তা-ই করব। আমি একজন সমস্যা সমাধানকারী। আমি খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান করে ফেলি।’

তবে পারমাণবিক কর্মসূচি পরিদর্শনে অনুমতির দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।