ইরানে চলছে নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন। লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ও আশপাশের সড়কগুলো। শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও বিদ্বানরা। এদিকে, আলি খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানি সেনাপ্রধান।
আর জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান উপলক্ষে ইরানকে এক সপ্তাহের জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! রয়টার্স।
সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শুক্রবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা চত্বরে রাখা হয় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সর্বোচ্চ নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীতে সমবেত হতে থাকেন লাখ লাখ মানুষ। শনিবার সকাল ৬টায় খুলে দেওয়া হয় গ্র্যান্ড মোসাল্লার দরজা।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শ্রদ্ধা জানানোর সময় আবেগাপ্লুত হয়ে অঝোরে কাঁদতে দেখা গেছে তাদের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে সে ভিডিও।
৪ ও ৫ জুলাই তেহরানে সর্বসাধারণের অংশগ্রহণে আলি খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সর্বসাধারনের শ্রদ্ধা জানানোর সুবিধার্থে আলি খামেনির পাশাপশি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হয়েছে মার্কিন হামলায় নিহত তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের কফিন।
৬ ও ৭ জুলাই তেহরানের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করবে শোকমিছিল। পরে রাজধানী থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে কোম শহরের নেওয়া হবে আলি খামেনির মরদেহ। জীবনের প্রথম ভাগে এই শহরেই পড়াশুনা করেছিলেন আলি খামেনি।
৮ জুলাই খামেনির মরদেহ নেওয়া হবে পাশের দেশ ইরাকে। দেশটির নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর মরদেহ গ্রহণ করা হবে। এরপর নাজাফ ও কারবালার জনসাধারণের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে শোকযাত্রা।
সবশেষে ৯ জুলাই খামেনির মরদেহ আবার ফিরিয়ে আনা হবে ইরানে। সেদিন মাশহাদ শহরে ইমাম রেজার মাজারে তাঁকে দাফন করা হবে। ১৯৩৯ সালে মাশহাদ শহরেই জন্ম হয়েছিলো আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। কথা গত মার্চেই তাঁর দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়।