ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আসলে কোথায়?

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো জনসমক্ষে দেখা যায়নি মোজতবা খামেনিকে। এমনকি তাঁর বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজা কিংবা দাফনেও অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। যুদ্ধ, নিরাপত্তা আর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে তাঁর এই অনুপস্থিতি ইরানের ক্ষমতা কাঠামোকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হন তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁর কোনো প্রকাশ্য উপস্থিতি নেই। নেই কোনো ভাষণ, ভিডিও বার্তা কিংবা নতুন ছবি।

একটি গুঞ্জন রয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আহত হওয়ার পর তিনি চিকিৎসাধীন। ধারণা করা হয়, সেই হামলায় তাঁর মুখমণ্ডল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি। যদিও ইরান কর্তৃপক্ষ এই দাবি মানতে নারাজ।

ইরানি সূত্রগুলো বলছে, জনসমক্ষে না এলেও ইরানের যুদ্ধকৌশল নির্ধারণ ও শান্তি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন মোজতবা খামেনি। নিরাপত্তাজনিত কারণেই মূলত তিনি প্রকাশ্যে আসছেন না বলেও জানায় তারা।

মোজতবা খামেনির এই অনুপস্থিতি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে আলী খামেনির জানাজা ও দাফনের সময়। ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে খামেনির অন্য তিন ছেলে উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না মোজতবা। এমনকি তাঁর পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনো শোকবার্তা পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এখানেই তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক সংকটের নতুন মাত্রা।

কারণ, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শুধু রাষ্ট্রপ্রধান নন; তিনি দেশটির রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় সর্বোচ্চ কর্তৃত্বের প্রতীক। তাই সংকটের এই সময়ে জনগণের সামনে তাঁর উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে ইরানের ভেতরেও এ নিয়ে গুঞ্জন ও আলোচনা বাড়ছে। এখন পর্যন্ত ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে দৃঢ় অবস্থান ধরে রেখেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বিশ্লেষকদের ধারণা, মোজতবা খামেনির রাজনৈতিক ভিত্তিও মূলত এই বাহিনীর ওপরই দাঁড়িয়ে আছে।

তাঁর বাবা আলী খামেনি দীর্ঘ ৩৭ বছরে ধীরে ধীরে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু মোজতবার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। একই সঙ্গে মোজতবার ধর্মীয় গ্রহণযোগ্যতা তুলনামূলক কম, আবার স্বাধীন রাজনৈতিক পরিচিতিও সীমিত। ফলে সংকটের এই আবহে তাঁর নেতৃত্ব কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।