এবার আসল ক্ষমতা দেখাল ইরান!

একটার পর একটা হামলা, একটার পর একটা বিস্ফোরণ; আর প্রতিবারই বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সমীকরণ। এবার ইরান একের পর এক এমন সামরিক অভিযান শুরু করেছে, যা শুধু যুক্তরাষ্ট্রকেই নয়, পুরো পশ্চিমা জোটের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান, ওমান ও কাতার—যে অঞ্চলগুলো এতদিন মার্কিন সামরিক উপস্থিতির নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, সেই এলাকাগুলোই এখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কেন্দ্রবিন্দু। ইরান বলছে, এটি শুধু কোনো পাল্টা জবাব নয়, বরং তাদের সামরিক সক্ষমতার নতুন প্রদর্শন।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ‘অপারেশন নাসর-২’-এর ২৪তম ধাপে পারস্য উপসাগরজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, বাহরাইনের আল-মুহাররাকে একটি মার্কিন রাডার স্থাপনা ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে আল-রিফায় অবস্থিত একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারিকেও অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে।

এরপর দ্বিতীয় ধাপে বাহরাইনে অবস্থিত আমাজনের একটি কেন্দ্রীয় ডেটা অবকাঠামোতেও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, এই অবকাঠামোটি মার্কিন সামরিক কার্যক্রমকে সহায়তা করছিল।

শুধু বাহরাইনেই নয়, কুয়েতেও দীর্ঘপাল্লার রাডার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্যাটেলাইট রিসিভিং সিস্টেম এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডারে হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটির এমকিউ-৯ ড্রোন হ্যাঙ্গারেও আঘাত হানা হয়েছে, যেখানে একাধিক ড্রোন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে জর্ডানের রুকবান এলাকায় মার্কিন সামরিক কম্পাউন্ডে হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগেও গত ১৭ জুলাই কুয়েত, ওমান, সিরিয়া, জর্ডান, কাতার ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে ইরান।

বিভিন্ন দেশে এসব হামলার ঘটনা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোও নিশ্চিত করেছে। এদিকে হরমুজ প্রণালীতেও নতুন পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে তেহরান। ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকলে তাদের সামরিক অভিযানও চলবে এবং ‘অপারেশন নাসর-২’-এর পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই নেওয়া হয়েছে।

ইরানের একের পর এক হামলায় রীতিমতো কোণঠাসা যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও ইরানের তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলো। এই পরিস্থিতি বার্তা দেয় যে, ইরান কেবল তাদের ওপর হওয়া আঘাতের জবাবই দিচ্ছে না, বরং পশ্চিমা বিশ্বকে নিজেদের প্রকৃত সামরিক শক্তি জানান দিচ্ছে।