ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় ‘খুব ভারী হামলা’ চালানোর সরাসরি হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সেই হুমকির পরই এসেছে তেহরানের কড়া বার্তা। এই বার্তা শুধু ওয়াশিংটনের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের জন্যই এক ভয়ংকর সতর্কসংকেত।
ইরান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, তাদের পারমাণবিক কিংবা অন্য কোনো সংবেদনশীল স্থাপনায় হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ, মার্কিন ঘাঁটি এবং তাদের মিত্র দেশগুলো—কোনোটিই ইরানের আঘাত থেকে রেহাই পাবে না।
এই হুঁশিয়ারি এসেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড 'খাতাম আল-আম্বিয়া' হেডকোয়ার্টার্স থেকে। তাদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র যদি এমন কোনো হামলা চালায়, তবে সেটিকে পুরো পশ্চিম এশিয়াজুড়ে যুদ্ধ বিস্তারের ঘোষণা হিসেবে ধরা হবে। আর তার জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেবে ‘শক্তিশালী’ পাল্টা আঘাত।
এরই মধ্যে ইরানের ইসলামি রিভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ‘অপারেশন নাসর-২’-এর নতুন ধাপে কুয়েতের আলি আল-সালেম ঘাঁটির আশপাশের একটি আগাম সতর্কীকরণ রাডার, একটি ট্যাকটিক্যাল রাডার কমপ্লেক্স এবং বুবিয়ান দ্বীপের আরেকটি রাডার ব্যবস্থা অকার্যকর করে দিয়েছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এসব অভিযান এখনো শেষ হয়নি; সামরিক অভিযান সামনে আরও চলবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও বসে নেই। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, টানা ১১তম রাতের মতো তারা ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব হামলার উদ্দেশ্য হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের হুমকি কমিয়ে আনা। যদিও এসব হামলা কোনোভাবেই ইরানকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন (৩ হাজার ৭৫০ কোটি) ডলার। একই সঙ্গে পেন্টাগন জানিয়েছে, চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরু থেকে ইরান-সংক্রান্ত সংঘাতে প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে কূটনৈতিক অঙ্গনেও। ইরান বুলগেরিয়াকে সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে যদি নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়া হয়, তবে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে সেটিও আগ্রাসনের অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একই সময়ে ফ্রান্সের সঙ্গেও ইরানের কূটনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে বার্তাটা পরিষ্কার—ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরান শুধু কথার কথা বলেনি, বরং আরও বড় সামরিক প্রতিক্রিয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই—ট্রাম্প কি শেষ পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের উপস্থিতিকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলবেন, নাকি কূটনীতির মাধ্যমে মেটাবেন সেই আগুন, যা অনেক দিন ধরেই ধিকিধিকি জ্বলছে? পুরো বিশ্বের নজর এখন সেদিকেই।



