সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধের কারণ দেখিয়ে পশ্চিম তীরে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, নাবলুস ও জেনিনসহ বেশ কয়েকটি শহরে চালানো হয়েছে এই অভিযান। এদিকে অভিযানের পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে নেতানিয়াহু সরকার। এতে নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার পর এবার পশ্চিম তীরে আগ্রাসনের মাত্রা বাড়িয়েছে ইসরায়েল। একের পর এক শহরে চলছে নির্বিচার হামলা। সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধের অজুহাতে নাবলুস, জেনিন, কালকিলিয়া এবং তুলকারেম এলাকায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে।
চলতি সপ্তাহে পশ্চিম তীরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সেই সঙ্গে ‘তেল’ গ্রামে অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং গ্রামবাসীদের কাজের পারমিট বাতিলেরও নির্দেশ দেন তিনি।
অভিযানের পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে নেতানিয়াহু সরকার। সেখানে ৭৬৩টি নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে নতুন খামার ও বসতি স্থাপন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তও জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ হলেও ২০২২ সালের শেষের দিক থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে শতাধিক নতুন বসতি এবং দেড় শতাধিক কৃষি আউটপোস্টের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইসরায়েল-সমর্থিত বসতি স্থাপনকারী ও স্থানীয় ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সহিংসতার সৃষ্টি হতে পারে।
উল্লেখ্য, পশ্চিম তীরে ১৯৬৭ সালের পর সবচেয়ে বড় গণউচ্ছেদের ঘটনা ঘটে ২০২৫ সালে। সে সময় প্রায় ৫০ হাজার ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়।
এদিকে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার প্রতিবাদে শনিবার তেল আবিবে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা ও যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে স্লোগান দেন ইসরায়েলি আন্দোলনকারীরা।