ফের উত্তেজনার কেন্দ্রে হরমুজ প্রণালি

ইরানের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে আবারও উত্তেজনা বাড়ছে। ওমানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে তেহরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা যাচ্ছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই বলছেন, ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল তেহরানেরই।

ইরানের রাজধানী তেহরানের ব্যস্ত সড়কে চোখে পড়ে একের পর এক রাজনৈতিক বার্তার বিলবোর্ড। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত একটি বিলবোর্ডে দেখা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গলা চেপে ধরে আছে বহু হাত। পাশে বড় অক্ষরে লেখা, প্রতিশোধ অনিবার্য।

শুধু এই একটি নয়, তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় এমন অসংখ্য বিলবোর্ডে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। কোথাও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আহ্বান, কোথাও আবার আপসহীন অবস্থানের ঘোষণা।

এমন পরিবেশেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তেহরানবাসী। একই সঙ্গে ওমানসহ উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর প্রতিও রয়েছে তাদের গভীর অবিশ্বাস। তাদের অভিযোগ, এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে স্বাধীন অবস্থান নিতে ব্যর্থ।

অন্যদিকে ইরান সরকার জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতেই রয়েছে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন দেখা গেছে সাধারণ ইরানিদের বক্তব্যেও।

ইরানের একজন বাসিন্দা বলেন, ‘ওমান বা অন্য আরব দেশ, আমাদের কাছে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। আমরা তাদের বিশ্বাস করি না। হরমুজ প্রণালি ইরানেরই, আর এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট।’

হরমুজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে সম্প্রতি ওমানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরান সফর করে। ইরান চায়, প্রণালিটির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে। তবে এই উদ্যোগ নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে সংশয়।

আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘ওমান সরকার হয়তো সমঝোতায় রাজি হতে চাইবে। কিন্তু তারা নিজেরা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের চাপের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মতো অবস্থানে নেই। আমরা হয়তো স্বাধীনভাবে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেব, কিন্তু এমন পরিস্থিতি মেনে নেব না যেখানে অন্যরা আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।’

মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও, তেহরানের রাস্তায় এখনো সবচেয়ে জোরালো বার্তা একটাই—বাইরের চাপ নয়, নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ইরান আপসহীন।