ট্রাম্পের চোখ এড়িয়ে ইরানের ‘সারপ্রাইজ অ্যাটাক’!

হোয়াইট হাউসে তখন কূটনৈতিক আলোচনার হিসাব-নিকাশ। সবাই ধরেই নিয়েছিল, আপাতত সংঘাত থেমে গেছে। কিন্তু ঠিক সেই সময়ই ঘটে এমন এক ঘটনা, যা মুহূর্তেই বদলে দেয় পুরো চিত্র। কোনো সতর্কবার্তা নয়, কোনো প্রকাশ্য ঘোষণা নয়। হঠাৎ করেই আকাশ চিরে ছুটে আসে একের পর এক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। লক্ষ্য—মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন আলোচনার আশায় অপেক্ষা করছেন, ঠিক তখনই ইরান দেখিয়ে দিল—তারা এখনো যুদ্ধের মাঠ ছাড়েনি। আর এই হামলাকে মার্কিন বাহিনী নিজেই বলছে 'সারপ্রাইজ অ্যাটাক'। এর মানে, ট্রাম্প প্রশাসন বুঝে ওঠার আগেই চরম আঘাতের মুখে পড়ে মার্কিন ঘাঁটি।

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) একসঙ্গে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে দেয় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর দিকে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল জর্ডানে থাকা একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। যদিও কেন্দ্রীয় কমান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে ঘাঁটির নাম প্রকাশ করেনি, তারা নিশ্চিত করেছে—মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন বাহিনীকেই লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মার্কিন বাহিনী নিজেরাই এই হামলাকে 'সারপ্রাইজ অ্যাটাক' বা আচমকা হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে। অর্থাৎ, এমন সময়ে এই আঘাত এসেছে, যখন ওয়াশিংটন বড় ধরনের হামলা হতে পারে বলে আশা করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশেই ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, তাদের সদস্যরা এখনো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

আর এই হামলার সময়টাও বেছে নেওয়া হয়েছে খুব হিসাব-নিকাশ করে। কারণ এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় দেড় ঘণ্টার সেই বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, আলোচনা ছিল ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ। অন্যদিকে ট্রাম্প নিজেও দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনাকে সুযোগ দিতেই তিনি বড় ধরনের সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছেন। কিন্তু সেই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইরান যেন জানিয়ে দিল—তাদের অবস্থান বদলায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি সামরিক হামলা নয়; বরং একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তাও। কারণ আলোচনা চলার মধ্যেই এমন হামলা দেখিয়ে ইরান বোঝাতে চেয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা যেকোনো মুহূর্তে আবারও যুদ্ধক্ষেত্র উত্তপ্ত করতে পারে। যদিও টানা ১৪ দিন হামলা-পাল্টা হামলার পর বড় ধরনের সংঘাত বন্ধ ছিল, কিন্তু এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আবারও প্রমাণ করল, উত্তেজনা এখনো শেষ হয়নি।

একদিকে আলোচনা, অন্যদিকে হঠাৎ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা—এই দুই ঘটনাই এখন মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তবতা। ট্রাম্পের ভরসা যখন কূটনীতি, ঠিক তখনই ইরান দেখিয়ে দিল, যুদ্ধের ময়দানে চমক দেওয়ার ক্ষমতা তাদের এখনো অটুট। ফলে এটাই কি নতুন সংঘাতের শুরু, নাকি আরও বড় কিছু অপেক্ষা করছে? সেই প্রশ্নই এখন বিশ্বরাজনীতিতে।