ইরানের হিটলিস্টে সৌদি, বাঁচাতে পারবেন ট্রাম্প?

ইরানের টার্গেট লিস্টে কি এবার নিজেই নাম লেখাল সৌদি আরব? ট্রাম্পের মিত্রকে বাঁচাতে সরাসরি মাঠে নেমেছে আমেরিকা? ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোনের ঝড় কি সামলাতে পারবে রিয়াদ? নাকি আমেরিকার কথায় ইরাকে হামলা চালিয়ে নিজের পায়েই কুড়াল মারল সৌদি? কেনই-বা হঠাৎ ইরাকের আকাশে একসঙ্গে গর্জে উঠল মার্কিন ও সৌদি যুদ্ধবিমান? পরিণামে ক্ষুব্ধ তেহরানের পক্ষ থেকে কী অপেক্ষা করছে সৌদির জন্য?

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা যেন প্রতি ঘণ্টায় নতুন মোড় নিচ্ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথভাবে ইরাকের পূর্বাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর একাধিক অস্ত্র ও লজিস্টিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে। সেন্টকমের দাবি, ‘গত ৭২ ঘণ্টায় ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়েছিল মার্কিন সেনা এবং সৌদির জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে।’

ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ‘এসব হামলার নির্দেশ দিয়েছিল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি।’ তাই আর অপেক্ষা নয়, সরাসরি পাল্টা আঘাত। একসঙ্গে উড়ে যায় মার্কিন ও সৌদি ফাইটার জেট। টার্গেট—ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর অস্ত্রভাণ্ডার, লজিস্টিক সেন্টার ও সামরিক অবকাঠামো।

সেন্টকম আরও দাবি করেছে, ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ৬০০-রও বেশি হামলার চেষ্টা চালিয়েছে মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ইরাকের ভূখণ্ড থেকে সৌদির তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার পরই এই যৌথ অভিযান। রিয়াদের ভাষায়, ‘এটি ছিল আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ। জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনেই এই পদক্ষেপ।’ তবে একই সঙ্গে সৌদি বলছে, তারা যুদ্ধ চায় না, কিন্তু আগ্রাসনের জবাব অবশ্যই দেবে।

এদিকে স্থানীয় কিছু প্রতিবেদনের দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস বা পিএমএফের ঘাঁটি। বসরাসহ একাধিক এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের খবরও সামনে এসেছে। তবে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। উত্তেজনা আরও বাড়ে, যখন সেন্টকম জানায়—ইরান অঞ্চলজুড়ে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। মার্কিন দাবি, সব ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করা হয়েছে। তবুও পুরো অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই—সৌদি কি এবার সরাসরি ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলো? নাকি এই যৌথ হামলার মাধ্যমে ওয়াশিংটন বার্তা দিল—মিত্রদের ওপর হামলার জবাব এবার একসঙ্গেই দেওয়া হবে? আর যদি তেহরান এর পাল্টা জবাব দেয়... যদি আবার ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যায়... যদি সৌদির তেল স্থাপনাই হয়ে ওঠে পরবর্তী লক্ষ্য...তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে শুরু হতে পারে আরও বড় সংঘাত। আর সেই সংঘাতের পরবর্তী বিস্ফোরণ—কোথায়, কখন, আর কতটা ভয়ংকর হবে... সেই উত্তরই হয়তো লুকিয়ে আছে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই।