হরমুজ, বাব আল-মান্দেবের পর এবার মিসরের দামিয়েত্তা বন্দরে ড্রোন হামলায় উদ্বেগের কেন্দ্রে সুয়েজ খাল। বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জ্বালানি রুট একসঙ্গে সংকটে পড়লে এর প্রভাব পড়বে বিশ্ববাজারে। জ্বালানি সরবরাহে বাধা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে হুমকিতে পড়বে এশিয়া। খবর রয়টার্সের।
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলোর একটি সুয়েজ খাল। এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যকার সমুদ্রপথ প্রায় ছয় হাজার মাইল কমিয়ে দেয় এই খাল।
হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেবে চলমান সংকটের মধ্যে এতদিন সৌদি আরবের উত্তরমুখী তেল রপ্তানির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বিকল্প ছিল সুয়েজ খাল এবং সুমেদ পাইপলাইন।
কিন্তু মিসরের দামিয়েত্তা বন্দরে ড্রোন হামলার পর সেই নিরাপদ পথ নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও সুয়েজ খালকে সরাসরি লক্ষ্য করে এখনো কোনো হামলা হয়নি। তবে নৌপথটির সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধস নামাবে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।
কেপলার প্রধান ফ্রেইট বিশ্লেষক ম্যাথিউ রাইট বলেন, ‘সুয়েজ খাল এখনো খোলা রয়েছে, তবে কয়েক বছর ধরে হুথিদের হামলার কারণে জাহাজ চলাচল অনেকটাই সীমিত। আর সাম্প্রতি মিশরের বন্দরে হামলার পর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, সুয়েজপথে চলাচল আরও ব্যাহত হতে পারে, এমনকি অনেক জাহাজ এই পথ পুরোপুরি এড়িয়ে যেতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় সংকটাপন্ন হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি ইয়েমেনের হুতিদের হামলা ও হুমকির কারণে বাব আল-মান্দেবও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে সৌদি আরবের বিপুল পরিমাণ তেল এখন সুয়েজের দিকে পাঠানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু এ নৌপথটিও যদি অনিরাপদ হয়ে পড়ে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ কার্যত বিকল্পহীন হয়ে পড়তে পারে।
বিকল্প হিসেবে আফ্রিকার দক্ষিন প্রান্তের কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যেতে হবে জাহাজগুলোকে। তাতে যাত্রাপথ প্রায় ছয় হাজার মাইল বেড়ে যাবে, পরিবহন ব্যয় বাড়বে, আর জ্বালানি বাজারে চাপ আরও তীব্র হবে। বিশেষ করে এশিয়ার পরিশোধনাগারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ম্যাথিউ রাইট আরও বলেন, ‘সুয়েজপথ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও শিপিং শিল্প বড় ধাক্কা খাবে না। কারণ অনেক জাহাজই এখন কেপ অব গুড হোপ হয়ে চলাচলে অভ্যস্ত। তবে এতে যাত্রাপথ দীর্ঘ হবে, পরিবহন ব্যয় বাড়বে। আর সেই অতিরিক্ত খরচ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ঘারে গিয়েই পড়বে।’
হরমুজ ও বাব আল-মান্দেবে অনিশ্চয়তার মধ্যে সুয়েজ খালের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ফলে এই পথে যেকোনো বিঘ্ন মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহে বড় চাপ তৈরি করতে পারে। যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানির দাম এবং মূল্যস্ফীতিতে।