গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাসিন্দাদের দাবি, ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত ইয়েলো লাইন আরও ভেতরে সরিয়ে নেয়ায় আবারও ঘরছাড়া হচ্ছেন হাজারো মানুষ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই চিত্র। খবর রয়টার্সের।
গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় ধ্বংসস্তূপের পাশেই দেখা গেছে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণের প্রতীক হলুদ কংক্রিট ব্লক। এতে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছেন অসংখ্য ফিলিস্তিনি পরিবার।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত কয়েকদিনে জেইতুন, তুফাহ, শুজাইয়া, দেইর আল-বালা, খান ইউনিস ও উত্তর রাফায় নতুন করে ইয়েলো লাইন এগিয়ে নেয়া হয়েছে। ফলে আবারও শুরু হয়েছে বাস্তুচ্যুতির নতুন ঢল।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, এ নিয়ে অষ্টমবারের মতো বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন তারা। কোথাও একটু আশ্রয় নিলেই বলা হয়, এখান থেকেও চলে যেতে হবে। জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখারও সময় পাওয়া যায় না।
ইসরায়েলি বাহিনী বলছে, সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও বেসামরিক মানুষের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতেই এলাকাগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবারই নতুন নির্দেশনা দিয়ে তাদের বসতি ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা জানান, মনে হচ্ছে ধীরে ধীরে পুরো গাজাই ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে যাবে। এরইমধ্যে তারা গাজার বড় অংশ দখলের কথা বলছে। এভাবে চলতে থাকলে তাদের আর কোথাও থাকার জায়গা থাকবে না।
আরেক বাসিন্দার বলেন, ‘ইসরায়েলি সেনারা আমাদের খুব কাছে চলে এসেছে, এখানেই ইয়েলো লাইন বসিয়েছে। ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারি না। এটা আমাদের বাড়ি, আমাদের এলাকা। কিন্তু এখন সব ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে।’
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে, জেইতুন এলাকায় সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানে অন্তত ৩০টি পরিবার তাদের অস্থায়ী আশ্রয় হারিয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজার অধিকাংশ মানুষই বারবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। অনেকের কাছে এখন বেঁচে থাকার অর্থ শুধু কিছু কাপড়, রান্নার হাঁড়ি আর সামান্য জিনিসপত্র নিয়ে এক আশ্রয় থেকে আরেক আশ্রয়ে ছুটে বেড়ানো।
গাজায় নতুন করে সীমারেখা বিস্তৃত হওয়ার অভিযোগ ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ। একের পর এক বাস্তুচ্যুতির মুখে পড়া সাধারণ মানুষের মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে বলে আশঙ্কা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর।



