গাজায় চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যেই ইসরায়েলে কয়েক লাখ অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠিয়েছে ভারত। এমনটাই দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি বলছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে আড়াই হাজারের বেশি চালানের মাধ্যমে এসব সামরিক সরঞ্জাম তেল আবিবে পৌঁছেছে।
আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে গাজায় সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও থামেনি হামলা।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত সেখানে প্রাণহানি ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দাবি, নিহত ও আহত মিলিয়ে ফিলিস্তিনি হতাহতের সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি।
ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে সহায়তার অভিযোগে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের নাম আলোচনায় ছিল। এবার ভারতের ভূমিকাও তুলে ধরেছে অ্যামনেস্টি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ভারত থেকে ইসরায়েলে ২ হাজার ৫৯৬টি চালান পাঠানো হয়েছে। এতে ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭০টি বিস্ফোরক অস্ত্রের উপাদান, ৩ লাখ ৯০ হাজার ৫১৬টি সামরিক যন্ত্রাংশ এবং ২৯৮টি সামরিক যানবাহন-সংক্রান্ত উপাদান।
অ্যামনেস্টির দাবি, ভারতীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা খাতে এসব সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। সংস্থাটির মতে, এমন রপ্তানি ভারতকে গাজায় সংঘটিত গণহত্যায় জড়িত হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলছে।
অ্যামনেস্টির মহাসচিবের অভিযোগ, গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও ভারতীয় কোম্পানিগুলো অস্ত্রের উপাদান ও গোলাবারুদ সরবরাহ করে মুনাফা করছে।
প্রতিবেদন বলছে, গত এক দশকে ভারত-ইসরায়েল প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে। ড্রোন, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, নজরদারি ব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে দিল্লি-তেল আবিবের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা রয়েছে।
গাজা যুদ্ধ ঘিরে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মধ্যেই ভারতের অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে অ্যামনেস্টির এই প্রতিবেদন। তবে দিল্লির দাবি, তাদের প্রতিরক্ষা রপ্তানি জাতীয় স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি মেনেই পরিচালিত হয়।



