মোজতবা খামেনিকে খুঁজতে হিমশিম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের গোয়েন্দারা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান শনাক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা। ইলেকট্রনিক নজরদারি বিফলে যাওয়ায় এখন মানব গোয়েন্দা তথ্যের ওপরই বেশি নির্ভর করছে তারা। অন্যদিকে, মোজতবাকে নিরাপদে রাখতে একের পর এক কৌশল নিয়েছে তেহরান। এমন তথ্য উঠে এসেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে। 

বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে এখনও জনসমক্ষে আসেননি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তার শারীরিক অবস্থাও রহস্যে ঘেরা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছে।

কোথাও বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় তিনি সামান্য আহত হলেও নেতৃত্ব দেওয়ার মতো অবস্থায় আছেন। আবার কোথাও দাবি করা হয়েছে, তার আঘাত ছিল গুরুতর।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টাইমস বলছে, দীর্ঘদিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকায় মোজতবার অবস্থান শনাক্ত করা গোয়েন্দাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ১৫০ দিনের বেশি সময় তিনি মোবাইল ফোন, কম্পিউটার বা অন্য কোনো ডিজিটাল যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেননি। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ভূগর্ভস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন।

মোসাদের সাবেক কর্মকর্তা আভনার আব্রাহাম বলেন, ‘মোজতবার অবস্থান গোপন রাখতে শুধু কঠোর নিরাপত্তাই নয়, তার মতো দেখতে একাধিক ব্যক্তিকেও ব্যবহার করছে ইরান সরকার। ফলে হত্যার আশঙ্কা বা গুরুতর আঘাত, যে কারণেই হোক, তিনি তার বাবার জানাজা ও দাফনেও অংশ নেননি।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে নজরদারিতে যে ধরনের সাইবার কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল, মোজতবার ক্ষেত্রে তা কার্যকর হচ্ছে না। ফলে এখন গোয়েন্দাদের প্রধান ভরসা মানব গোয়েন্দা তথ্য বা হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স।

মোসাদের সাবেক কর্মকর্তা রামি ইগ্রা বলেন, ‘মোজতবা ফোন ব্যবহার না করলেও অন্য উপায়ে যোগাযোগ চালিয়ে যেতে পারেন। লিখিত বার্তা বা বিশ্বস্ত বার্তাবাহকের মাধ্যমে যোগাযোগ হতে পারে। তাকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে মানব গোয়েন্দা তথ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যেমনটি হয়েছিল আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে বের করার সময়।’

দ্য টাইমসকে মোসাদের সাবেক কর্মকর্তা জানান, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের মানব গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক সীমিত হলেও ইসরায়েলের সক্ষমতা তুলনামূলক শক্তিশালী। তাই তেহরানের পাশাপাশি ধর্মীয় নগরী কোমের আশপাশের সম্ভাব্য ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রেও নজর রাখা হচ্ছে।

এদিকে, ইরানের সংবাদমাধ্যম আল-মাশহারির দাবি, মোজতবার কোনো অডিও বার্তা প্রকাশ করা হচ্ছে না, কারণ অডিও রেকর্ডিং বিশ্লেষণ করে তার অবস্থান শনাক্ত করতে পারে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।