১ লিটার পেট্রোলের দাম ৯ লাখ ইরানি রিয়াল!

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ইরানের অর্থনীতিতে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এ ছাড়া, চাকরির সংকটে বেকারত্বের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এদিকে, তেহরানে ১৯ আগস্ট থেকে উন্নতমানের এক লিটার পেট্রোল বিক্রি হবে প্রায় ৯ লাখ ইরানি রিয়ালে।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। পরে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান। শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে সাড়ে পাঁচ মাস ধরে চেষ্টা চললেও কাটেনি অচলাবস্থা।

দীর্ঘদিনের এই যুদ্ধে কার্যত বন্ধ রয়েছে বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি। এতে বিশ্ববাজারে প্রতিনিয়ত ওঠানামা করছে তেলের দাম। বিশেষ করে এশিয়ার অর্থনীতিতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ইরানের অর্থনীতিতেও। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। আল জাজিরার প্রতিবেদন বলছে, একজন সাধারণ কর্মী সরকারি সহায়তা ও মাসিক বেতনসহ যে অর্থ পান তা থেকে যদি মাত্র এক কেজি ভেড়ার মাংস কেনেন তাহলে তাঁর মাসিক আয়ের ১০ শতাংশ চলে যায়। আর মাত্র ১০ কেজি ইরানি চাল কিনলে চলে যায় মোট অর্থের পাঁচ ভাগের এক ভাগ।

একজন ইরানি বলেন, ‘গত বছর অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক ভালো ছিল। এ বছর অবস্থা সত্যি ভয়াবহ। এখন শুধু পেটে ভাত জোগাড় করার জন্যই কাজ করছি। আমরা মূলত দিনমজুর হয়ে গেছি।’

আরেকজন ব্যক্তি বলেন, ‘যুদ্ধের প্রভাবে ক্রেতার সংখ্যা অনেক কমে গেছে। ন্যূনতম আয় করার মতোও বিক্রি হচ্ছে না। দোকানদারদের জন্য এটা খুবই খারাপ পরিস্থিতি।’

এ ছাড়া, দ্রুত বাড়ছে বাড়িভাড়া। বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল, যাতায়াত খরচ এবং চিকিৎসা খরচও আগের চেয়ে অনেক বেশি।

এদিকে, চাকরির বাজারও বেশ খারাপ। অনেকে চাকরি খুঁজেও তা পাচ্ছেন না। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, ইরানের অনেক তরুণ-তরুণী কাজের খোঁজে বের হওয়াকেও অর্থহীন মনে করে।

আগামী ১৯ আগস্ট ইরান জ্বালানি এক্সচেঞ্জে ২ লাখ ৪০ হাজার লিটার পেট্রোল বিক্রি করবে ইরান সরকার। এগুলো অন্য দেশ থেকে আমদানি করা উন্নতমানের পেট্রোল। প্রতি লিটার বিক্রি হবে ৮ লাখ ৯৭ হাজার ইরানি রিয়ালে, মার্কিন মুদ্রায় যা মাত্র শূন্য দশমিক ৪৮ ডলার।

২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রথম আমদানিকৃত পেট্রোল বিক্রি করে ইরান। ওই সময় প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ছিল ৬ লাখ ৫৮ হাজার রিয়াল।