বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে বাঁচার শেষ চেষ্টা করেছিলেন নেপালের কেশব প্রসাদ বারাল। চারদিকে তখন শুধু হড়পা বানের কাদা আর পানির স্রোত। চোখের সামনে হারিয়ে যায় তার স্ত্রী। তবে সৌভাগ্যক্রমে পরে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। আর যাদের ভাগ্য এতটা সহায় হয়নি, তাদের পরিবারে এখন চলছে স্বজন হারানোর শোক। নিখোঁজদের ফিরে পাওয়ার আকুতি আর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নতুন করে বেঁচে থাকার চেষ্টা।
বাড়ির ছাদে যখন দাঁড়িয়ে ছিলেন কেশব প্রসাদ বারাল, নিচে তখন মাটি আর বন্যার পানির স্রোত। নিজে জীবন বাঁচাতে ছাদে আশ্রয় নিতে পারলেও তার স্ত্রী তখন আর তার পাশে নেই। ভয়াবহ ভূমিধসে মাটির নিচে চাপা পড়েছেন তিনি।
এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখার পর চার-পাঁচ ঘণ্টা ছাদে অপেক্ষা করতে হয় কেশবকে। এরপর আসে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার, বেঁচে যান তিনি। কিন্তু প্রাণপ্রিয় স্ত্রীকে হারানোর সেই মুহূর্তের স্মৃতি এখনো তার কাছে দুঃস্বপ্নের মতো।
তিনি বলেন, বন্যার পানি যখন সমতলে আসতে শুরু করে আমি তখন ছাদে চলে যাই। প্রায় এক ঘণ্টা পর পানি কিছুটা কমে আসে। কিন্তু ততক্ষণে আমার স্ত্রী ভূমিধসে মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছেন। চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর একটি হেলিকপ্টারে করে আমাকে উদ্ধার করা হয়।
কেশবের এই অভিজ্ঞতাই নেপাল-চীন সীমান্তের ভয়াবহ দুর্যোগের নির্মম চিত্র তুলে ধরে। তবে কেশবের মত ভাগ্য প্রসন্ন হয়নি অনেক পরিবারের। হড়পা বানে ভেসে গেছে পরিবারের সদস্যরা, আর সলিল সমাধি হয়েছে শেষ আশ্রয়টুকুর। নিখোঁজদের সন্ধানে মরিয়া হয়ে ঘুরছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আহতদের তালিকার পাশাপাশি হাসপাতালের হিমঘরে চলছে স্বজনদের খোঁজ।
ভয়াবহ এই বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত নেপালে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮০ জন এবং এখনও নিখোঁজ আছেন আট শতাধিক। উদ্ধারকাজে ২ হাজার সেনাবাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি কাজ করছে দেশটির পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ফোর্সের সদস্যরা।