নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে এখনও ৮ শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। আর এ পর্যন্ত ১৬৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) দেওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বন্যার পর ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।এই সংখ্যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনী, পর্যটক এবং সাধারণ জনগণ অন্তর্ভুক্ত। নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যা ৫২৯ জনেরও বেশি।
এনডিআরআরএমএ বলছে, বন্যা-আক্রান্ত এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ১৬৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে - তাদের শনাক্তকরণের কাজ এখনও চলছে। সংস্থাটির এই তথ্য জেলা প্রশাসন কার্যালয় এবং জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত বিবরণের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে ৮৫ জন জরুরি পরিষেবা কর্মী রয়েছেন যাদের সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। বিবৃতিতে সেতু ও সড়কের ক্ষতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।
নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিখোঁজ ৫৭৯ পর্যটকের মধ্যে ৪শ জনের বেশি বিদেশি। তাদের মধ্যে ভারতের ১৪২, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন ছাড়াও রয়েছে অন্যান্য দেশের নাগরিক। এছাড়া তিব্বতের জিরোং প্রদেশে ২৬০ বিদেশিসহ সাড়ে ৫শর বেশি মানুষ নিখোঁজ বলে জানিয়েছে চীনের গণমাধ্যম সিসিটিভি।
এরআগে গতকাল হঠাৎ চীনের দিক থেকে পানির তীব্র স্রোত নেমে আসে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী ট্রেকিং রুট ও জনপদগুলোতে। কাদা আর ধ্বংসাবশেষে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় একের পর এক গ্রাম। ধ্বংস হয় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও অবকাঠামো। বুধবার এ দৃশ্য যেনো সিনেমার দৃশ্যকে হার মানায়।
নেপালের কয়েক দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাণঘাতী দুর্যোগগুলোর এটি একটি। ড্রোন-স্যাটেলাইট ছবিতেও সেই ভয়াবহতা স্পষ্ট। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রসুয়া ও নুয়াকোট জেলার কয়েকটি এলাকা।
উদ্ধার তৎপরতায় মোতায়েন করা হয়েছে নেপালের ২ হাজার সেনা সদস্য। দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বন্যার স্রোতে সড়ক, সেতু ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
নিখোঁজদের উদ্ধারে বাংলাদেশের পাশাপাশি সহায়তায় প্রস্তুত বিভিন্ন দেশ। পাঁচ লাখ ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গিরং এলাকায় প্রায় ৬শ উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করেছে চীন। সহায়তায় প্রস্তুত ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারত। বিশেষ উদ্ধারদল পাঠিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।



