হরমুজ সংঘাত: বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিবেশ

হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্যকেই অস্থিতিশীল করেছে না। বরং মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে ফেলছে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলকে। কেননা হরমুজের তেলবাহী জাহাজে যেকোন হামলায় সৃষ্ট পরিবেশ বিপর্যয়–ভয়ংকর মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার ফলে হরমুজ প্রণালী ও চারপাশের জলপথ পরিণত হয়েছে বিপর্যয়ের বারুদে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় একাধিক তেলের ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

হরমুজের এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল করছে। ফলে বড় ধরনের হামলায় জাহাজ থেকে সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি দেখছেন অনেকেই।

বেসরকারি সংস্থা মেরিনট্রাফিক এর তথ্যমতে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অপেক্ষায় এবং ওমান উপসাগর ও বৃহত্তর আরব উপসাগরীয় অঞ্চলে শত শত জাহাজ অবস্থান করছে। যার মধ্যে রয়েছে অন্তত ১৮টি বড় তেলবাহী নৌযান। এসব জাহাজের সম্মিলিত ধারণক্ষমতা প্রায় ১ কোটি ৭৬ লাখ ঘনমিটার। যা বিশ্বের দৈনিক তেলের চাহিদার ১১ শতাংশের সমান।

সংঘাতের ফলে এসব বাণিজ্যিক নৌযানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা জাহাজডুবিতে তেল নিঃসরণের ঘটনা ঘটলে --- তা গোটা অঞ্চলের সামুদ্রিক জীববৈচিত্রকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। এমনকি আরব সাগরের পানি ভারত মহাসাগরে ছড়িয়ে পড়লে পুরো উপসাগরীয় বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসের আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে ১৯৯১ সালে ইরাকের বিরুদ্ধে মার্কিন ডেজার্ট স্টর্ম অভিযানের সময় ওমানের উপকূলে ৮ লাখ ব্যারেল তেল ছড়িয়ে পড়ে। যার ফলে সেখানকার প্রবাল প্রাচীর, জলজ বন, সামুদ্রিক ঘাসের স্তর ও মাছ দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির মুখে পড়েছিল। এদিকে বর্তমান সংঘাতেও সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়লে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে সাগরের প্ল্যাঙ্কটন ও মাছের লার্ভা।

অন্যদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের বিশুদ্ধ পানির চাহিদার জন্য সম্পূর্ণভাবে সমুদ্রের পানি পরিশোধন কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। তাই সাগরের পানি দূষিত হলে এই পরিশোধন প্রক্রিয়াও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। যার ফলে এ অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।