তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হলে তার চেহারা কেমন হতে পারে? সেখানে কি আগের মতোই লাখ লাখ সেনা, বিশাল ট্যাংক বহর মোতায়েন কিংবা দীর্ঘস্থায়ী গোলাবর্ষণ হবে? নাকি ভিন্ন কোন কৌশল থাকবে? রুশ গণমাধ্যম আরটির বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন বলছে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ হতে পারে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধযন্ত্রনির্ভর। এ ইঙ্গিত মিলছে ন্যাটোর সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিকল্পনায়।
বাল্টিক দেশগুলোতে রাশিয়া হামলা চালালে কীভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে, এ নিয়ে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা সামনে এসেছে। এতে আধুনিক যুদ্ধের বদলে যাওয়া বাস্তবতারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ দেখিয়েছে, ড্রোন এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমরাস্ত্র। নজরদারি থেকে শুরু করে হামলা, সব ক্ষেত্রেই এটি বদলে দিয়েছে প্রচলিত যুদ্ধকৌশল।
একসময় ট্যাংককে স্থলযুদ্ধের প্রধান শক্তি মনে করা হলেও, ড্রোনের কারণে এখন অনেক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ট্যাংক। লুকিয়ে থাকা ড্রোন মুহূর্তে ধ্বংস করে দিতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তু।
ভবিষ্যতে ছোট ছোট বিশেষ প্রশিক্ষিত সেনাদল বিপুল সংখ্যক রোবোটিক ও স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধব্যবস্থা পরিচালনা করতে পারে। কম খরচে তৈরি ও দ্রুত প্রতিস্থাপনযোগ্য ড্রোন বড় ধরনের সামরিক ক্ষতিও করতে পারে।
এমনকি কার্যকর কিছু ড্রোন ছোট পরিসরে, বাড়ির গ্যারেজেও তৈরি করা সম্ভব। তাই, সমরাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা শুধু বড় প্রতিরক্ষা কারখানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।
বদলে যেতে পারে যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তুও। ট্যাংক ধ্বংসের বদলে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দেয়া হয়ে উঠতে পারে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।
তাই ভবিষ্যতের বিশ্বযুদ্ধ হয়তো একক কোনো বিশাল যুদ্ধক্ষেত্রে হবে না। বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে ছোট ছোট সংঘাত, যেখানে বড় ভূমিকা রাখবে ড্রোন, স্যাটেলাইট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
অর্থাৎ যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়, তাহলে সেটি আগের দুই বিশ্বযুদ্ধের মতো নাও হতে পারে। বিশাল সেনাবাহিনীর বদলে তখন ছোট দল, ট্যাংকের বদলে ড্রোন বা যুদ্ধের অন্যতম প্রধান শক্তি হয়ে উঠতে পারে প্রযুক্তি।



