ইরানে স্কুলে মার্কিন হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল: জাতিসংঘ

ইরানের একটি স্কুল ও ক্রীড়া স্থাপনায় মার্কিন সামরিক হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটির ফ্যাক্ট–ফাইন্ডিং মিশন জানায়, স্কুলে নির্বিচার হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। 

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযানের প্রথম দিনে কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই ধংসস্তুপে পরিণত হয় ইরানের উপকূলীয় শহর মিনাবে অবস্থিত মেয়েদের একটি স্কুল। মুহূর্তেই ঝড়ে যায় ১২০টি নিষ্পাপ প্রাণ। এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠলেও এখনো নিশ্চিত হয়নি জবাবদিহিতা।

প্রায় ৭ মাস পর এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটির  ফ্যাক্ট–ফাইন্ডিং মিশন বলছে, ইরানের একটি স্কুল ও ক্রীড়া স্থাপনায় মার্কিন সামরিক হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল। 

জাতিসংঘের তদন্তে স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে গোয়েন্দা তথ্য যাচাই না করেই মিনাব স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র।  প্রতিবেদনটি জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। 

তদন্তকারীদের দাবি, দেশটির মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন হামলায় নিহত হন দেড় শতাধিক বেসামরিক মানুষ, যাদের বড় অংশই ছিল শিক্ষার্থী। মিনাব শহরের স্কুলটির পাশাপাশি আরেকটি শহরের ক্রীড়াকেন্দ্রেও আক্রমন করা হয়। জাতিসংঘের মতে, স্কুলে নির্বিচার হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

এদিকে জাতিসংঘের অভিযোগ, সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, নির্বিচারে আটক ও জোরপূর্বক গুমের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়েছে ইরান সরকার। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কেউই এসব অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করেনি।