ইসরায়েলে নির্বাচন

বুথফেরত জরিপে এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ নেতৃত্বাধীন জোট

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে বুথফেরত জরিপে এগিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ নেতৃত্বাধীন জোট। এখন পর্যন্ত তারা পেয়েছে ৫৪টি আসন। অন্যদিকে, আইজেনকোট নেতৃত্বাধীন জোটের আসন সংখ্যা ৪৭টি। 

এছাড়া আরব দলগুলো ১৯টি আসন পেতে পারে বলে আভাস মিলেছে। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি কেউই। আনুষ্ঠানিকভাবে ফল জানা যাবে ৪ নভেম্বর।

ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষে আসতে শুরু করেছে বুথফেরত জরিপ। মিলেছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস। সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে ব্যবধান সামান্য। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না কোনো পক্ষই। একই মত বিশ্লেষকদেরও।

ইসরায়েলের ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনে প্রয়োজন ৬১টি আসন। বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাসে এককভাবে সরকার গঠনে ব্যর্থ হতে পারে সরকার ও বিরোধী জোট। ফলে মিত্র ছাড়া সরকার গঠন করতে পারছে না কোনো দলই।

তবে ডানপন্থী দলগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি নেতানিয়াহুর। একইসঙ্গে জাতীয় ডানপন্থী সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিলে ইরানের হুমকি দূর করার ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানান নেতানিয়াহু। 

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘বুথফেরত জরিপের ফল কেবল একটি প্রাথমিক ধারণা। আমরা এখনো প্রকৃত ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছি। ইসরায়েলে লিকুদই সবচেয়ে বড় দল। আমাদের একটি ডানপন্থী, জাতীয়তাবাদী ও শক্তিশালী সরকার গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে, ইসরায়েলবিরোধী আরব দলগুলোর সমর্থনপুষ্ট কোনো সরকারও গঠন করা উচিত নয়।’

এদিকে, প্রাথমিক ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের দাবি, এবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি মানুষের আস্থার চরম অভাব দেখা গেছে। এ অবস্থায় মানুষের অনাস্থা মেনে নিয়ে নেতানিয়াহুকে রাজনীতি থেকে বিদায় নেয়ার আহ্বান জানান।

গাদি আইজেনকোট বলেন, ‘আমি আজ আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি অত্যন্ত আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত হয়ে। আগামী বছরগুলোতে ইসরায়েলকে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রশ্নে জনগণ তাদের রায় দিয়েছেন। জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। নেতানিয়াহুর জোট সরকার মানুষের আস্থা হারিয়েছে।’

এবার বুথফেরত জরিপে বেশ ভালো ফল করেছে আরবপন্থী দলগুলো। এবারের সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন দরকার হতে পারে বলেও মত বিশ্লেষকদের।ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইতিহাসে একক দল হিসেবে সরকার গঠনের মতো পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার নজির নেই। বরাবরই কয়েকটি দলের সমন্বয়ে গঠিত হয় জোট সরকার।