ইসরায়েলের নির্বাচন ঘিরে গাজায় বাস্তব পরিবর্তনের প্রত্যাশা খুবই কম ফিলিস্তিনিদের। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরিবর্তে অন্য কেউ ক্ষমতায় এলেও যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকায় পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান তারা। এরই মধ্যে বাস্তুচ্যুতি, তাঁবুতে মানবেতর জীবন আর শীতের আগমনে বাড়ছে উদ্বেগ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ বছরের বেশি সময় ধরে ইসরায়েলি হামলায় বিপর্যস্ত গাজা। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও থামেনি হামলা। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের নির্বাচনের ফলাফলের দিকে নজর রাখছেন গাজার ফিলিস্তিনিরা। তবে সরকার পরিবর্তনে তাদের দুর্দশা কতটা কমবে, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।
ইসরায়েলে ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনা। প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো জোট।
নেতানিয়াহুর পরিবর্তে নতুন সরকার এলে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হবে, এমনটা মনে করেন না অনেক ফিলিস্তিনি।
এক ফিলিস্তিনি নারী বলেন, ‘গাদি আইজেনকোট আসুক কিংবা নেতানিয়াহু থাকুক, আমাদের কাছে দুটোই একই পরিস্থিতি। তারা ফিলিস্তিনিদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন। তবে নেতানিয়াহু সরে গিয়ে আইজেনকোট এলে, বিদেশি সম্পর্কের ক্ষেত্রে হয়তো পরিবর্তন আসতে পারে। আমাদের পরিস্থিতিও কিছুটা বদলাতে পারে।’
গাজার মানুষের কাছে সবচেয়ে জরুরি বিষয় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া জনপদ পুনর্গঠন। তাদের অনেকে মনে করেন, নেতানিয়াহুই এসব উদ্যোগের পথে বড় বাধা। তাই নতুন সরকার এলে অন্তত সংকট নিরসনে অগ্রগতি হবে, এমন প্রত্যাশা তাদের।
আরেক ফিলিস্তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলে যেই ক্ষমতায় আসবে, তার কাছে আমাদের প্রত্যাশা, তিনি যেন পরিস্থিতির উন্নতি ঘটান। তিনি যেন নেতানিয়াহুর চেয়ে ভালো হন। গাজার মানুষের দুর্দশা কমাতে পারেন। আমাদের অবস্থা সত্যিই ভয়াবহ। বাস্তুচ্যুত হয়ে তাঁবুতে থাকতে থাকতে আমরা ক্লান্ত।’
এদিকে, ইসরায়েলের পার্লামেন্টে আরব দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব থাকলেও সরকার গঠনে তাদের ভূমিকা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। ফলে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে গাজাবাসীর আগ্রহ থাকলেও, যুদ্ধের অবসান ও পুনর্গঠনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।