পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনের ফল প্রকাশ করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন (ইসিপি)। তাতে এগিয়ে আছেন ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে ইমরানের দল পিটিআই দাবি করছে, নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে সমর্থকেরা। রাস্তা থেকে তাদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন বলছে, রোববার লাহোরে নির্বাচন কমিশনের একটি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দী ইমরান খানের সমর্থকেরা। ওই সময় তাঁদের বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ সময় এক শিশুকে কান্না করতে দেখা যায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এই শিশুর বাবাকে তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ।
এদিকে, নির্বাচনের পুরো ফল প্রকাশ করার আগেই জেল থেকে ইমরান তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক–ই–ইনসাফের নেতা–কর্মীদের বিশেষ নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, স্বতন্ত্র সব প্রার্থীকে যেন এক ছাতার নিচে আনার চেষ্টা করা হয়। জাতীয়ভাবে সরকার গঠন ছাড়াও প্রাদেশিক সরকার গঠনকেও যেন সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া নেতা–কর্মীদের রাস্তায় নামারও নির্দেশনা দেন ইমরান খান।
ইসিপির সবশেষ ফলাফলে দেখা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সর্বাধিক ১০১টি আসনে জয় পেয়েছেন। সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক–ই–ইনসাফ (পিটিআই) পার্টির সমর্থিত প্রার্থীরা পেয়েছেন ৯৬টি আসন। নওয়াজ শরিফের পিএমএল–এন পেয়েছে ৭৫টি আসন। পিপলস পার্টি পেয়েছে ৫৪টি আসন। এ ছাড়া করাচি-ভিত্তিক দল মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) পার্টি পেয়েছে ১৭টি আসন। অন্যান্য দল পেয়েছে ১৭টি আসন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে ২৬৬টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের একটি আসনে ভোট বাতিল করা হয়েছে এবং পাঞ্জাবের অন্য একটি আসনের ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। এ কারণে ফল ঘোষণা করা হয়েছে ২৬৪টি আসনের।
গত তিন দিন ধরে এ নির্বাচনের ফল ঘোষণা করছিল ইসিপি। ভোটের ফলাফলে শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৩৪টি আসন। এখন জোট গঠন ছাড়া সরকার গঠন করার উপায় নেই।
আল জাজিরা বলেছে, পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের মোট আসনসংখ্যা ৩৩৬। এর মধ্যে ২৬৬ আসনে সরাসরি ভোট হয়। এ ছাড়া বাকি ৭০টি আসন সংরক্ষিত। এসব আসনের মধ্যে ৬০টি নারীদের ও ১০টি সংখ্যালঘুদের।