পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের আসল পৃষ্ঠপোষক ভারত: পাকিস্তান আইএসপিআরের ডিজি

ভারতকে পাকিস্তানে চলমান সন্ত্রাসবাদের আসল পৃষ্ঠপোষক বলে অভিযুক্ত করলেন দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক (ডিজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী।

একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ অভিযোগ করেন বলে ডনের রোববারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ওই সাক্ষাৎকারটি প্রচার করা হয়েছে পিটিভি নিউজে।

সাক্ষাৎকারে আইএসপিআরের মহাপরিচালক বলেন, ভারত এই অঞ্চলে বিশেষ করে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। পাকিস্তানে চলমান সন্ত্রাসবাদের আসল পৃষ্ঠপোষক ভারত, তা সে খারিজ হোক বা বেলুচিস্তানে সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হোক।

গত মাসে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান মুখপাত্র জানান, ভারতের দ্বারা প্রশিক্ষিত সন্দেহভাজন এক পাকিস্তানি সন্ত্রাসীকে পাঞ্জাবের ঝিলামে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই প্রসঙ্গ আসে জেনারেল আহমেদ শরীফের বক্তব্যে।

তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো সহিংস জাতি নই, আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতি। আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার শান্তি। আমরা শান্তি ও স্থিতিশীলতা চাই।’

আহমেদ শরীফ চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, পাক-ভারত উত্তেজনা বোঝার জন্য এর পটভূমি খতিয়ে দেখা অপরিহার্য। সত্য গোপন করার জন্য ভারত মিথ্যা বর্ণনার আড়ালে লুকিয়ে আছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ভারতীয় মিডিয়া পেহেলগাম ঘটনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পাকিস্তানকে দোষারোপ শুরু করলেও, তার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দুই দিন পরে স্বীকার করেন যে তদন্ত চলছে।

আইএসপিআর মহাপরিচালক প্রশ্ন তোলেন, তদন্ত এবং প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ করা বুদ্ধিমানের কাজ? একই সঙ্গে বলেন, সরকার স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে, যদি কোনো প্রমাণ থাকে, তবে তা একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া উচিত এবং পাকিস্তান সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, ভারত যৌক্তিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং একতরফাভাবে কাজ করে আমাদের মসজিদগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার ফলে শিশু, নারী এবং বয়ষ্করা শহীদ হয়েছেন।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন,পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর ওপর অর্পিত পবিত্র দায়িত্ব হল দেশের সার্বভৌমত্ব এবং সীমান্ত রক্ষা করা। যে কোনো মূল্যে তা করে যাবে।

যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বর্ণনা দিতে গিয়ে আইএসপিআর মহাপরিচালক বলেন, ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্যক্তিগতভাবে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছিলেন। এটি স্পষ্ট নয় যে, অনুরোধটি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, না পাকিস্তানের কাছে করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, পাকিস্তান, অত্যন্ত পরিপক্কতার সাথে তাৎক্ষণিকভাবে, দৃঢ়ভাবে এবং কার্যকরভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, শত্রুকে বাস্তবতার মুখোমুখি হতে বাধ্য করেছে। জাতি এবং পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী এক অটুট প্রাচীরের মতো ঐক্যবদ্ধ ছিল।

গত ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুক হামলায় নিহত হন ২৬ জন। এ ঘটনায় পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করেছে ভারত। এ নিয়ে দু প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে ৬ মে রাতে পাকিস্তানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ভারত। এর প্রতিক্রিয়া দেয় পাকিস্তানও। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে বিরতি দিয়েছে ভারত ও পাকিস্তান।