পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের একাধিক জেলায় দেশটির সরকারি বাহিনী ও স্থাপনায় পৃথক হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র বেলুচ যোদ্ধারা। একই সঙ্গে চাগাই জেলায় খনিজ বহনকারী বেশ কয়েকটি যানবাহন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে 'বেলুচিস্তান পোস্ট'-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চাগাইয়ের নোকেচাহ এলাকায় একটি বহরে গুলি চালায় সশস্ত্র বেলুচ যোদ্ধারা। পরে তারা বেশ কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
বেলুচিস্তানে 'অর্থনৈতিক অবরোধ' ঘোষণা করেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। এই কর্মসূচির মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। বিএলএ যোদ্ধারা বেলুচিস্তানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এ পর্যন্ত দুই শতাধিক যানবাহনে আগুন দিয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে নোশকি শহরের দিকে যাওয়া পাকিস্তানি বাহিনীর একটি বড় বহরে হামলা হয়েছে। বহরটির সঙ্গে থাকা বুলেটপ্রুফ গাড়িতে পুলিশ সদস্যরা ছিলেন।
বেলুচিস্তান পোস্ট বলছে, এই হামলায় পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যরা হতাহত হয়েছেন। তবে নিহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুই দিন আগে নোশকি শহরের কাছে আরেকটি সামরিক বহরে হামলা হয়েছিল। সেখানে তিন সেনাসদস্য নিহত ও আরও তিনজন আহত হয়েছিলেন।
অন্যদিকে হারনাই জেলায় জিন্দা পীরের কাছে মহাসড়ক অবরোধ করে যান চলাচলে তল্লাশি চালায় সশস্ত্র যোদ্ধারা। তারা কয়েক ঘণ্টা ওই এলাকায় অবস্থান করে। পরে পার্শ্ববর্তী ডেলকোনা লেভিস স্টেশন এবং প্যান ঘরের একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করে দেয়।
কোহলুর হাসরি এলাকায় অ্যান্টি-টেররিস্ট ফোর্সের (এটিএফ) সদস্যরাও হামলার শিকার হয়েছেন। এতেও কয়েকজন হতাহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, খারানে তাজিনা এলাকায় একটি অভিযানের সময় পাকিস্তানি বাহিনীকে লক্ষ্য করে মর্টার শেল নিক্ষেপ করে সশস্ত্র যোদ্ধারা। এতে বাহিনীটির বেশ কয়েকজন হতাহত হন এবং তারা পিছু হটতে বাধ্য হন।
এসব হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি এবং পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের তরফ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।