গত ১ মার্চ থেকে ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ২০ হাজারের বেশি পাকিস্তানিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সম্প্রতি পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে পেশ করা সরকারি তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।
পাকিস্তানের নারকোটিক্স কন্ট্রোল মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভিক্ষাবৃত্তি, নিরাপত্তা শঙ্কা, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো।
এ সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৫০০ জন পাকিস্তানিকে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত ফেরত পাঠিয়েছে ৩ হাজার ৮০৩ জনকে। অন্যান্য দেশের মধ্যে ওমান ১ হাজার ৬০৬ জন, বাহরাইন ৫২১ জন, কাতার ৪২৯ জন এবং কুয়েত ৯৭ জনকে ফেরত পাঠিয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেআইনি প্রবেশ, নির্ধারিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান, ভিক্ষাবৃত্তি, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, নিরাপত্তাজনিত কারণ এবং ভুয়া কাগজপত্রের মতো নানা অপরাধের কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ফেরত পাঠানোদের মধ্যে ৪ হাজার ৬২৮ জন ছিলেন বিভিন্ন মামলায় পলাতক অপরাধী এবং ১ হাজার ২৯৪ জন কারাদণ্ড ভোগ করার পর দেশে ফিরেছেন। এ ছাড়া ৯৬৮ জনকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। পাসপোর্ট হারানোর তথ্য পাওয়া গেছে ১ হাজার ১৫৫ জনের, ভিসা নীতি লঙ্ঘন করেছেন ৬৮৯ জন এবং ৩৪২ জন প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। এর বাইরেও আরও প্রায় ৬ হাজার জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তবে এর বিস্তারিত কোনো তথ্য মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেনি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের সময় বিভিন্ন শহরে ইরানি হামলার ভিডিও তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করার অপরাধেও বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি আটক ও বহিষ্কৃত হয়েছেন। অভিবাসন ও অপরাধসংক্রান্ত আইনের বাইরে গিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হিসেবেও বিষয়টি সামনে এসেছে।
পাকিস্তানের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ড. তারিক ফজল চৌধুরী আইনপ্রণেতাদের জানান, উপস্থাপিত এই তথ্যটি উল্লেখিত সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চল ছেড়ে আসা মোট পাকিস্তানির পূর্ণাঙ্গ চিত্র নয়।
মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, যেসকল নাগরিককে সে দেশের কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে আটক করেছে এবং পাকিস্তানে ফিরিয়ে আনতে তাদের দূতাবাস বা মিশন জরুরি ভ্রমণ নথি জারি করেছে—কেবল তাদের তথ্যই এখানে ধরা হয়েছে। যারা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরেছেন কিংবা যাদের কাছে বৈধ পাসপোর্ট ছিল, তারা এই হিসেবের অন্তর্ভুক্ত নন।