কাউন্সিলর না থাকায় বরিশাল সিটিতে নাগরিক ভোগান্তি চরমে। ৩০টি ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব ন্যস্ত হয়েছে ১৬ জন সরকারি কর্মকর্তার ওপর। তবে মূল দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি সিটির অতিরিক্ত এই দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
বরিশাল সিটির পরিষদ ভেঙে দেওয়ার পর তৃণমূলের সেবা সচল রাখার দায়িত্ব পান সরকারি কর্মকর্তারা। তবে দাপ্তরিক কাজের সাথে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ৩০টি ওয়ার্ডের কাজ করতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছেন ১৬ কর্মকর্তা । নিয়মিত অফিসে আসতে না পারায় কাউন্সিলর কার্যালয়ে জমছে ফাইলের স্তুপ। নাগরিকত্ব সনদ বা জন্মনিবন্ধনের মতো সেবার জন্যও দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয় নগরবাসীকে। অভিযোগ রয়েছে তদারকির অভাবে অর্থ লেনদেনেরও।
নগরীর এক বাসিন্দা বলেন, ‘যে কর্মকর্তা তাদের দেওয়া হয়েছে, তারা ওয়ারিশ সার্টিফিকেট নিয়ে বড়ই যন্ত্রণা করে।’
আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘কমিশনারের সার্টিফিকেট আনতে ৪–৫ দিন ঘোরা লাগে। এই সার্টিফিকেট পেতে পেতে অনেকের চাকরি বা অন্যান্য আবেদনের মেয়াদও শেষ হয়ে যায়।’
সিটির ওয়ার্ড কার্যালয়ের অন্যতম কাজ জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধের সামাজিক সালিস। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে কর্মকর্তারা অপরিচিত হওয়ায় সালিসি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে ছোটখাটো বিরোধেও থানা বা আদালতে যাচ্ছেন এলাকাবাসী। বাড়ছে সামাজিক অপরাধ। পাশাপাশি আইনি জটিলতার ভয়ে ওয়ারিশ সনদ দিতে দীর্ঘ সময় নিচ্ছেন কর্মকর্তারা।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, মূল দাপ্তরিক কাজের চাপ সামলে সাধ্যমতো সেবা দেয়ার চেষ্টা করছেন তারা। তবে অনেক সময় সনদের সত্যতা নিশ্চিতে কিছুটা সময় লাগছে।
বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দার বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন থেকে আমাদের ওপর যে দায়িত্বগুলো দেওয়া রয়েছে, সেগুলো পালনে আমরা সচেষ্ট থাকি। আমাদের মূল দাপ্তরিক কাজের বাইরেও আমরা কাজগুলো করার চেষ্টা করি।’
বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মীর মু. জাহিদুল কবির তুহিন বলেন, ‘নাগরিকত্ব ও জন্মিবন্ধন এই দুইটা সেবার জন্যই বেশি সংখ্যায় মানুষ আসে। আমি সবসময় দিনেরটা দিনের মধ্যে করে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
কর্মকর্তাদের নানা ব্যস্ততার কথা স্বীকার করেছে সিটি করপোরেশন। তদারকি বাড়িয়ে নাগরিক ভোগান্তি কমানোর আশ্বাস কর্তৃপক্ষের
বরিশাল সিটি করপোরেশনের সচিব রুম্পা সিকদার, ‘আমাদের অফিস থেকে তদারকি আরও বাড়ানো হবে। কীভাবে নাগরিকদের সেবাটা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া যায়, সেজন্য আমরা বদ্ধ পরিকর।’
নাগরিক সেবা নিশ্চিতে দ্রুত পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মকর্তা নিয়োগ বা জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে ভোগান্তি নিরসনের দাবি বরিশালবাসীর।
৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকার বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে ১০ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সেলরসহ মোট ৪০ জন কাউন্সেলরের পদ রয়েছে।


