রাজধানীর রমনার অফিসার্স ক্লাবের তৃতীয় তলা থেকে বেজমেন্টে পড়ে মো. মোশারফ হোসেন (৭২) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিবের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সিঁড়ির পাশ থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মোশারফ হোসেন মুন্সিগঞ্জের পশ্চিম দেওভুনা গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি বনানীর ৫ নম্বর রোডের ৪০ নম্বর ভবনের, সি/৩–এ ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। তার দুই মেয়ে। বড় মেয়ে আমেরিকায় থাকেন এবং ছোট মেয়ে তাসমিয়া মারজান বাবার সঙ্গেই থাকতেন। তিনি অফিসার্স ক্লাবের সদস্য ছিলেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজে আসা নিহতের মামাতো ভাই মো. নাজমুল হাসান মিলন জানান, শুক্রবার আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে মোশারফ হোসেন তার ছোট মেয়ে তাসমিয়া মারজানকে নিয়ে অফিসার্স ক্লাবে প্রবেশ করেন। তার এই মেয়ে কয়েকদিন পর পরই সাঁতার কাটার জন্য অফিসার্স ক্লাবে যেতেন। সেই সূত্র ধরেই গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি তার মেয়েকে সুইমিং করার জন্য পাঠান।
মো. নাজমুল হাসান মিলন আরও জানান, তার ছোট মেয়ের বিয়ের দিন ঠিক হয়েছে। কদিন পরেই বিয়ে। সেই বিয়ের আনুষ্ঠানিক কিছু কাজের জন্য (বুকিং) ভবনের অন্য দিকের একটি নির্মাণাধীন সাইডে চলে আসেন মো. মোশারফ হোসেন। তিনি চোখে অনেক কম দেখতেন। তাই লিফট খুঁজে পাচ্ছিলেন না। একবার সিঁড়ি দিয়ে নামছিলেন একবার উঠছিলেন। এর মধ্যে নিচে থেকে বিদ্যুতের তার তোলার জন্য একটা ফাঁকা জায়গা আছে– সেখান দিয়ে তিনি অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মিলন বলেন, ‘পরবর্তী তার মরদেহ প্রথমে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে ডেট সার্টিফিকেট এবং আনুষঙ্গিক কিছু কাজের জন্য রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে মরদেহটি হিম ঘরে রাখা হয়েছে।
আমাদের এই মৃত্যুতে কোন অভিযোগ নেই। কারণ আমরা পরিবারের সদস্যরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছি। প্রশাসন থেকেও এই সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এই মৃত্যুকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবেই দেখছে। তার বয়সের কথাও চিন্তা করে আমরা ময়নাতদন্ত করতে চাচ্ছি না। প্রশাসন থেকেও ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ আমাদের কাছে হস্তান্তর করবে বলে জানিয়েছে।’
নিহতের বড় মেয়ে আমেরিকা থেকে দেশে ফিরলেই তার দাফন সম্পন্ন হবে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. হাবিবুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।


