নাটোরের ভূমি অফিসগুলোতে সেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির অভিযোগ সাধারণ মানুষের। নানা অজুহাতে হয়রানি এবং অতিরিক্ত টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, টাকা না দিলে দিনের পর দিন ঘোরানো হয়। এছাড়া সার্ভারে সমস্যা, কাগজপত্র ঠিক নেই-এমন নানা অজুহাতে সেবাগ্রহীতাদের বার বার পাঠানো হয় অফিসের বাইরে অনলাইন সার্ভিসের দোকানে।
নাটোরের ৭ উপজেলায় ৫২টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস। সেখানে নানা অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ স্থানীয়দের।
জমির নামজারি, খাজনা দেয়াসহ বেশির ভাগই করতে হয় অনলাইনে। তবে ভূমি অফিসের কর্মীরা নানা কৌশলে সেবাগ্রহীতাদের সরাসরি অফিসে যেতে বাধ্য করে বাড়তি টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ অনেকের।
ভুক্তভোগী শাহজাহান খান জানান, তার কাছে ১২ হাজার ৭০০ টাকা দাবি করে। নায়েবের কাছে আর একজন থাকে তিনি সে টাকা নিয়েছেন। সেই টাকা নেওয়ার পরেও আজ নয় কাল বলে ঘোরাচ্ছে।
আর এক ভুক্তভোগী মোতালেব শেখ অভিযোগ করেন, তিনি খাজনার চেক কাটানোর জন্য ২–৩ দিন এসেছেন। প্রতিদিন বাড়ি থেকে আসা যাওয়ায় এক দেড়শ টাকা খরচ হয়। আসলেই বলে সার্ভারের সমস্যা। একটা চেক কাটাতে যেখানে ১০ টাকা লাগার কথা সেখানে তারা ১০০ টাকা করে দিয়েছেন। তারপরেও এই ভোগান্তি। তাদের এই ভোগান্তি দেখার তো কেউ নেই।
নাটোরে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ‘এ নিয়ে লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ পাইনি।’
ভূমি অফিসের সেবা নির্বিঘ্ন করতে এসি ল্যান্ড ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিশেষ নির্দেশনার কথা জানালেন জেলা প্রশাসক।
নাটোরর জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বলেন, ‘ভূমি অফিসের বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি আমরা। সেক্ষেপে আমি সহকারী কমিশনার ভূমি ও উপজেলা নিবার্হী অফিসারকে নির্দেশনা দিয়েছি। কি ধরনের অভিযোগ সাধারণ মানুষ করছে এবং কি ধরনের সমস্যা তারা ভোগ করছে এগুলো তারা আমাদের অবহিত করবে।’
ঘুষ ও হয়রানি বন্ধ করতে ভূমি অফিসের কর্মীদের মোবাইল ফোন ও লেনদেন খতিয়ে দেখার পাশাপাশি অফিসগুলোতে বাড়তি নজরদারির দাবি সেবাগ্রহীতাদের।


