বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বেকারত্বের শিকার হতে পারেন প্রায় ৮০ কোটি কর্মক্ষম তরুণ। এছাড়া, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি আর জলবায়ু বিপর্যয়ের প্রভাবে ১৩ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়বে বলে শঙ্কা জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি–ইউএনডিপির। সংস্থাটির নতুন প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, ঋণসংকট ও জলবায়ু বিপর্যয়ের বিরূপ প্রভাব পড়ছে শ্রমবাজারে। ত্রিমুখী ধাক্কায় ভেঙে পড়ার শঙ্কায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি। এ আশঙ্কা জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি ইউএনডিপির।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনে ইউএনডিপির নতুন প্রতিবেদন --- নো টাইম টু রিকভার প্রকাশ করা হয়। সংস্থাটির প্রধান জানান, ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী বিপুল সংখ্যক তরুণের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে হিমশিম উন্নয়নশীল দেশগুলো।
ইউএনডিপির প্রধান কর্মকর্তা আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশগুলো তিন ধরনের চাপে পড়েছে। এই সতর্কতাকে রেড এলার্ট না হলেও অরেঞ্জ এলার্ট বলতেই হবে। ওইসব দেশে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সহনশীলতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়।’
ইউএনডিপি বলছে, উন্নয়নশীল দেশে সরকারি রাজস্বের প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ ঋণের সুদ দিতে ব্যয় হয়। যা উন্নত দেশগুলোর ব্যয়ের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক খাতে বরাদ্দ থাকছে না। তাই, ১৫ বছরের মধ্যে ৮০ কোটি তরুণ বেকার হয়ে পড়তে পারে। চরম দারিদ্র্যের কবলে পড়বে ১৩ কোটি মানুষ।
সংকট মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক ও ইউরোপীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সাথে যৌথভাবে দুটি উদ্যোগ নিয়েছে ইউএনডিপি। টেকসই কর্মসংস্থান তৈরি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাকে জলবায়ু বিপর্যয়ে ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেবে এসব উদ্যোগ।


