আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ আর কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভরশীল হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ প্রাধান্য পাবে বলেও মন্তব্য করে তিনি।
আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ভারত ও চীনের নিরপেক্ষ বন্ধু হবে বাংলাদেশ, অন্য কিছু নয়।
সবার আগে বাংলাদেশ–পররাষ্ট্রনীতির দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ এর আয়োজন হয় গোলটেবিল আলোচনা। এতে অংশ নেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
এ সময় আলোচকেরা বলেন, পররাষ্ট্রনীতি হিসেবে সবার আগে বাংলাদেশ মানে বাংলাদেশকে একঘরে করা নয়, বরং সবক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া।
মূল বক্তব্য উপস্থাপন শেষে কূটনীতিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে মর্যাদাশীল করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বাংলাদেশ আর কখনোই, কোনো অবস্থাতেই, কোনো দেশ বা কারও অধীনস্থ, বশ্যতাস্বীকারকারী রাষ্ট্রে পরিণত হবে না; তা সে পূর্ব হোক বা পশ্চিম। বাংলাদেশ তার জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছার ভিত্তিতে, নিজস্ব শর্তে অন্যদের সঙ্গে সহযোগিতা করবে। সেই পুরোনো বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশ অন্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল, আজ আর নেই। বাংলাদেশ তার নিজস্ব নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করে সামনে এগিয়ে যাবে; যা কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং তা হবে বহুমাত্রিক এবং নমনীয়।’
বাংলাদেশ শুধু পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে খাপ খাওয়াতেই প্রস্তুত নয়, বরং নেতৃত্বে ভূমিকা রাখতে চায়। ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কৌশল বিষয়েও ধারণা দেন উপদেষ্টা।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘‘মূল বিষয়টি আমরা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি এবং ভবিষ্যতেও তা করে যাব, আমরা চীন ও ভারতের মধ্যে কোনো ফুটবল হতে চাই না। আমরা কখনো এদিকে, কখনো ওদিকে থাকতে পারি, কিন্তু আমরা কারও লাথি খাওয়ার ফুটবল হব না। আমরা চাই, উভয়ের প্রতিই একজন নিরপেক্ষ বন্ধু হিসেবে থাকতে। তাদের মধ্যে একটি খেলার মাঠ থাকতে পারে, কিন্তু আমরা সেই মাঠের ফুটবল নই। সুতরাং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’–অর্থাৎ সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আওয়ামী লীগ সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবির।



