বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন এখন আর শুধু কল্পনায় সীমাবদ্ধ নয়। সঠিক তথ্য আর প্রস্তুতি থাকলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও সহজেই পৌঁছে যেতে পারেন বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। এমনই এক সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে তুরস্ক। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা, গবেষণাবান্ধব পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে দেশটি দিন দিন হয়ে উঠছে শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য।
বিশেষ করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে তুরস্ক এখন এক আকর্ষণীয় উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র। ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত এই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতি বছর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নানা ধরনের স্কলারশিপের সুযোগ করে দেয়। এতে একদিকে যেমন পড়াশোনার খরচ কমে আসে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পরিবেশে নিজেকে গড়ে তোলার সুযোগও তৈরি হয়।
এই ধারাবাহিকতায় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামে অধ্যয়নের জন্য স্কলারশিপ ঘোষণা করেছে সাবানসি বিশ্ববিদ্যালয়। তুরস্কের ইস্তান্বুল শহরে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুপরিচিত। বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা এখানে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় আগামী ১৫ জুন।
১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সাবানসি বিশ্ববিদ্যালয় অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষার মান ও গবেষণার গুণগত উৎকর্ষের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে রয়েছে তিনটি প্রধান অনুষদ প্রকৌশল ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান এবং সাবানসি বিজনেস স্কুল। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে রয়েছে একটি আলাদা ভাষা স্কুল। যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্কলারশিপের সুবিধাগুলোও বেশ আকর্ষণীয়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহন করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর পাশাপাশি দেওয়া হবে মাসিক উপবৃত্তি। যা শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন খরচ মেটাতে সহায়ক হবে। আরও রয়েছে বিনা মূল্যে আবাসন সুবিধা। ফলে থাকার খরচ নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। গবেষণায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা গবেষণা ভাতাও দেওয়া হবে। যা তাদের একাডেমিক কাজে সহায়তা করবে।
তবে এই সুযোগ পেতে হলে কিছু যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হতে হবে এবং ইংরেজি ভাষায় ভালো দক্ষতা থাকতে হবে। একাডেমিক ফলাফলও সন্তোষজনক হওয়া জরুরি। পাশাপাশি প্রার্থীদের তাদের পছন্দের প্রোগ্রামে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করতে হবে।
আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। সময়মতো সঠিকভাবে আবেদন সম্পন্ন করাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
বর্তমান বিশ্বে উচ্চশিক্ষা শুধু ডিগ্রি অর্জনের বিষয় নয়। বরং নিজেকে আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলার একটি সুযোগ। তুরস্কের মতো দেশে পড়াশোনা করলে একদিকে যেমন মানসম্মত শিক্ষা পাওয়া যায়। অন্যদিকে বিভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অভিজ্ঞতাও অর্জিত হয়।
যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এই স্কলারশিপ হতে পারে একটি বড় সুযোগ। সঠিক প্রস্তুতি আর সময়মতো আবেদন, এই দুইয়ের সমন্বয়ই খুলে দিতে পারে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।



