গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত মেটার অ্যাড লাইব্রেরি পরীক্ষা করে দেখা গেছে, রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ফেসবুকে বিজ্ঞাপনে বাংলাদেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (বর্তমানে পদ স্থগিত) শেখ রবিউল আলম রবি।
রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় প্লিজেন্ট প্রপার্টি নামে একটি আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিরোধের জেরে জমির মালিকের ছেলে তানজিল জাহান ইসলাম (৩৪) গত ১০ অক্টোবর সকালে খুন হন। তানজিল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা ছিলেন।
এ হত্যার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১৬ জনের নামে মামলা করেছে পরিবার, মামলায় তিন নম্বর আসামি বিএনপির নেতা ও প্লিজেন্ট প্রোপার্টিজ লিমিটেডের কর্ণধার শেখ রবিউল আলম রবি।
সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে শেখ রবিউল আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল বিএনপি। সময়মতো এর জবাব দিয়েছিলেন এই নেতা। তবে জবাবে সন্তুষ্ট না হওয়ায় ও হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় তাঁর দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভাবমূর্তি রক্ষায় চেষ্টা চালিয়ে গেছেন শেখ রবিউল আলম রবি।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর- এই এক মাসের মেটার অ্যাড লাইব্রেরি পরীক্ষা করে দেখা গেছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিজ্ঞাপনে ১৪ হাজার ৮০০ ডলার খরচ করা হয়েছে। ‘অজ্ঞাত’ স্থান থেকেও ১০০ ডলারের কম বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। কমপক্ষে একটি বিজ্ঞাপন দিয়েছে এমন পেজের সংখ্যা ৮৭৪টি।
অর্থ খরচের দিকে সবচেয়ে এগিয়ে আছে একটি যৌন উদ্দীপক পণ্য বিক্রেতা পেজ। ৩০ দিনে ১৭টি বিজ্ঞাপনে ১ হাজার ৮৪৮ ডলার ব্যয় করেছে পেজটি। এরপরই আছে নবগঠিত একটি রাজনৈতিক দলের পেজ, যারা মাত্র দুটি বিজ্ঞাপনে ৮৭৫ ডলার ব্যয় করেছে। অথচ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি আছে তালিকার ছয়ে। তারাও দুটি বিজ্ঞাপন দিয়েছে এই একমাসে, তাতে ব্যয় করেছে ৪৭৬ ডলার।
এর চেয়ে বেশি ব্যয় করা হয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পেজ থেকে। এই সময়সীমায় তিনটি বিজ্ঞাপনে তারেক রহমানের পেজ বুস্ট করতে ৫০৯ ডলার খরচ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে তালিকার চারে আছেন তারেক রহমান।
একক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে এরপর সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছেন শেখ রবিউল আলমই। ৩০ দিনের সময়সীমায় এই নেতা ৯টি বিজ্ঞাপনে ১৭০ ডলার খরচ করেছেন।
তবে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো, সময়টা যদি ৩০ দিন থেকে শেষ ৭ দিনে কমিয়ে আনা হয় তবে খরচের দিক থেকে তারেক রহমান বা বিএনপি থেকেও এগিয়ে আছেন শেখ রবিউল আলম। তাঁর পেজে গিয়ে দেখা গেছে, ১০ অক্টোবর অর্থাৎ দীপ্ত টিভির কর্মকর্তা তানজিল হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি পোস্ট করা হয়েছে।
১৩ অক্টোবর প্রথমে একটি ভিডিও বার্তা ও পরে একটি দীর্ঘ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছেন। দুটি পোস্টই বুস্ট করা হয়েছিল। এবং সে দুই বিজ্ঞাপনে ১১২ ডলার (১৩ হাজার ৩০০ টাকার বেশি) ব্যয় করা হয়েছে। অথচ একই সময়ে দুটি বিজ্ঞাপনে তার দল বিএনপির ব্যয় ১০০ ডলারও পার হয়নি।
১৩ অক্টোবরে ফেসবুক বুস্টে এত ব্যয় করার পরদিনই তাঁর দলীয় পদ স্থগিতের করা হয়েছে।
শেখ রবিউল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, জমির মালিককে প্লিজেন্ট প্রোপার্টিজ লিমিটেডের পাঁচটি ফ্ল্যাট দেওয়ার চুক্তি থাকলেও, তারা দুটি হস্তান্তর করেছে। বাকি তিনটির মধ্যে একটি ফ্ল্যাট অবৈধভাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মামুনের শ্বশুরের কাছে বিক্রি করেন শেখ রবিউল আলম রবি। ফ্ল্যাটটি মামুন অবৈধভাবে জবরদখল করে রেখেছিল। যা নিয়ে গত তিন বছর ধরেই দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।
এই দ্বন্দ্বের জেরে অভিযুক্তরা ১০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে মহানগরের ফ্ল্যাটে অতর্কিত হামলা করলে দীপ্ত টিভির কর্মকর্তা তানজিল জাহান ইসলাম ওরফে তামিম গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।