হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে বলা হয় দেশের প্রধান প্রবেশদ্বার। দেশে বর্তমানে ৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থাকলেও শাহজালাল দিয়েই সবচেয়ে বেশি যাত্রী বিদেশে যাওয়া–আসা করেন। শুধু যে যাত্রীরাই যাওয়া–আসা করেন তা নয়, আকাশপথে দেশ থেকে যত পণ্য আমদানি–রপ্তানি হয় তার সিংহভাগই হয় এই বিমানবন্দর দিয়ে। সুতরাং যে কোনো অবস্থাতেই এই বিমানবন্দরটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শনিবার শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়। ফায়ার সার্ভিস, বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর সম্মিলিত চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। তবে তা এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কার্গো ভিলেজ কি এবং কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে যে পণ্য আমদানি–রপ্তানি হয়, তার আনুষ্ঠানিকতা মূলত এই কার্গো ভিলেজে সম্পাদন করা হয়। একটি পণ্য বিদেশ থেকে এলে সাথে সাথেই তা খালাস করা হয় না। আবার আমদানির প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সাথে সাথেই তা উড়োজাহাজে তোলা হয় না। এর জন্য কাস্টমসসহ বিভিন্ন সংস্থার ছাড়পত্র প্রয়োজন হয়। মূলত এই কাজগুলোই করা হয় কার্গো ভিলেজে।
সোজা কথায় বলতে গেলে এটি মূলত একটি গুদাম। সাধারণত আমদানি ও রপ্তানির জন্য ভিন্ন ভিন্ন কমপ্লেক্স থাকে। শনিবার যেখানে আগুন লেগেছে, সেটিতে মূলত আমদানি করা বিভিন্ন পণ্য খালাসের অপেক্ষায় ছিল।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানিয়েছেন, শনিবারের আগুনের কারণে আমদানি কমপ্লেক্সের বিপুল পণ্য পুড়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা না গেলে এর মাত্রা হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে যেসব আমদানিকারক বিদেশ থেকে নানা পণ্য এনেছিলেন, তার ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। যদিও এসব ক্ষেত্রে বীমার ব্যবস্থা থাকে, তবে বীমার টাকা পাওয়ার বিষয়টি বেশ সময়সাপেক্ষ।
অন্যদিকে, আগুনে কার্গো ভিলেজের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার কারণে এটিকে পুনরায় চালু করতেও বেশ সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।