মঙ্গল শোভাযাত্রার ধারণা কোথা থেকে এল

পয়লা বৈশাখের আজকের মঙ্গল শোভাযাত্রার শুরু যশোরে। তখন নাম ছিল আনন্দ শোভাযাত্রা। তাতেই প্রথম ব্যবহার করা হয় ট্যাপা পুতুল, প্যাঁচা, ময়ুর, বাঘসহ নানা লোক মোটিফ। শিল্পী এস এম সুলতানের সংগঠন চারুপিঠের ব্যানারে হয়েছিল এই আয়োজন। আর এর মূলভাগে ছিলেন শামীম-হিরণময়ের মতো কয়েকজন তরুণ। তাঁরা বলছেন, একুশের প্রভাত ফেরির অনুকরণেই বর্ষবরণের আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু।

সালটা ১৯৮৫। সামরিক আইনে রুদ্ধ সারা দেশ। দমবন্ধ হয়ে আসা সেই সময়ে ঢাকা থেকে যশোরে আসেন চারুকলার ছাত্র শামীম-হিরণময়। শিল্পী সুলতানের হাতে গড়া চারুপিঠের উদ্যোগে পয়লা বৈশাখ উদযাপন প্রথমবারের মতো বের হয় আনন্দ শোভাযাত্রা।

চারুশিল্পী মাহবুব জামাল শামীম জানান, ১৯৮৫ সালে সামরিক আইনে দমবন্ধ হয়ে আসা সেই সময়ে চারুপিঠের উদ্যোগে পয়লা বৈশাখের দিন দেশের সব শিল্প ঐতিহ্যকে মিলিয়ে হারানো কৃষ্টির বিজয় শোভাযাত্রা বের করা হয়।

তখনই প্রথম ব্যবহার করা হয় ট্যাপা পুতুল, প্যাঁচা, ময়ুর, বাঘের মতো সব বাঙলার লোক মোটিভ। যা আজকে মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ।

চারুশিল্পী হিরণময় চন্দ বলছেন, মঙ্গল শোভাযাত্রায় যেসব লোক মোটিভ ব্যবহার হয় সেগুলোর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। এটি পুরোটাই কৃষ্টি-সংস্কৃতি।

তবে সে আয়োজন বন্ধে উঠে পড়ে লাগে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। তখন শেকড়ের টানে দলমত নির্বিশেষে সামনে দাঁড়িয়েছিলেন সবাই। বাংলা ১৩৯৫ সালে প্রথম বর্ষবরণের আনন্দযাত্রা শুরু হয়েছিল যশোর শহরের জেলা প্রশাসকের অফিসের সামনে থেকে। তাতে ঢাক-ঢোল, বাঁশি, কাসর নিয়ে সামিল হয়েছিল নগরবাসী।

সংস্কৃতিকর্মী হারুন অর রশিদ বলেন, পয়লা বৈশাখে আমরা প্রথম এই মিছিলটা করেছিলাম। এ কারণে চারুপিঠের ওপর একটা দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, প্রতি বছর বৈশাখের দিন বাড়তি কিছু করা।
 
যশোরে ৪ দশক ধরে শিল্পচর্চায় নেতৃত্ব দিচ্ছে চারুপিঠ। ১৯৭৮ সালে যে ধারার সূচনা করেছিলেন সুলতান। এখনও তা বহাল, এবারও সড়ম্বরেই হচ্ছে বর্ষবরণ ও সংক্রান্তি।

যশোরের চারুপিঠ থেকেই চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা। সেটি এখন বিশ্ব ঐতিহ্যেরই অংশ। সাম্প্রদায়িকতা ভুলে প্রগতির পথে হাঁটাই এর বার্তা।

সংশ্লিষ্ট খবর: