পুরোদমে চলছে বাংলা বর্ষবরণের প্রস্তুতি। রাজধানীতে বর্ষবরণের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকরা। তাই দম ফেলানোর ফুরসত মিলছে না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থীদের।
‘অন্ধকার ভেদ করে আলো ছড়াতে -আমরা তো তিমিরবিনাশী’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে এ বছর চারুকলা অনুষদ থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হবে রোববার সকাল ৯ টায়। শাহবাগ মোড় হয়ে শিশুপার্কের সামনে দিয়ে ঘুরে আবারও শাহবাগ হয়ে টিএসসিতে গিয়ে শেষ হবে শোভাযাত্রাটি।
মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য তৈরি হচ্ছে রঙিন মুখোশ, বিশালাকৃতির নানা ধরণের অবয়ব। এর মধ্যে রয়েছে লক্ষ্মী প্যাঁচা ও বাঘের প্রতিকৃতি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন বলেন, ‘আমাদের যে কৃষিভিত্তিক সমাজ, বাংলাদেশের। এখানে কিন্তু এই প্যাঁচাটা শুভের প্রতীক হিসেবে, সম্বৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে আমাদের এখানে আসে।’
চারুকলার দেয়াল ফুটিয়ে তোলা হয়েছে রিক্সা পেইন্টিংয়ে। আয়োজন ঠিকভাবে করতে ঈদের ছুটিতেও ব্যস্ত সময় পার করছেন চারুকলার শিক্ষার্থীরা।
এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ওয়াল পেইন্টিং সব শেষ। আর এখানে কাজ তো চলছেই। বৈশাখের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে এখন সামান্য কিছু কাজ বাকি আছে।’
বিশাল এই কর্মযজ্ঞ দেখতে পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকেই আসছেন চারুকলায়।
পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মুখে মুখোশ পরা যাবে না। বহল করা যাবে না ব্যাগও। তবে, চারুকলা অনুষদের মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করা যাবে। অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে বিকাল ৫টার মধ্যে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘ভুভুজেলা যে বাঁশিটি ব্যবহার করা হয়, এটি যদি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী এবং সরকারকে অনুরোধ করব, পুলিশকে অনুরোধ করব তারা যেন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’
শনিবার সন্ধ্যা ৭টার পর ক্যাম্পাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে না। নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।


মঙ্গল শোভাযাত্রা: শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত চারুকলার শিক্ষার্থীরা
মঙ্গল শোভাযাত্রার ধারণা কোথা থেকে এল
কড়া নাড়ছে নববর্ষ, বরণে সারা দেশে নানা প্রস্তুতি
