ঘরে পানি ওঠায় অনেকে ঠাঁই নিয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রে। দুর্যোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৩ হাজার ১৬০ কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় দুই লাখ মানুষ। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবার সরবরাহ করছে স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন। তবে দুর্গতরা বলছে, চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল।
এমন ভয়াবহ বন্যা কখনোই দেখেনি নোয়াখালীর মানুষ। বানের পানিতে ভাসছে আট উপজেলা। কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়েছে বাড়ি-ঘর।
জেলার ৫০২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের। এখনও অনেকে ছুটছেন আশ্রয়কেন্দ্রে।
আশ্রয়কেন্দ্রে আসা এক স্থানীয় বলছেন, ‘ঘর-বাড়ি পানিতে ডুবে যাওয়ায় সেখানে থাকার উপায় নেই। প্রয়োজনীয় জিনিস-পত্র নিয়ে ছেলে-মেয়েসহ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছি।’
এরই মধ্যে আর্থিক সহায়তা ও চাল বিতরণের কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসন বলছে, দুর্গতদের সহযোগিতায় মজুত রাখা হয়েছে ১,২৯৫ মেট্রিক টন চাল।
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা প্রসঙ্গে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরতদের ধৈর্য ধরতে আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে ত্রাণ পৌঁছানোর কাজ চলছে। আশা করছি সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রতিটি কেন্দ্রে আমরা ত্রাণ পৌঁছাতে পারব।’
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র অবস্থান করছে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ। অনেক স্কুল-কলেজেও আশ্রয় নিয়েছে বন্যাদুর্গতরা।
মৌলভীবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা দুর্গতদের জন্য ২৮৫ মেট্রিকটন চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমা বলেন, ‘যেহেতু ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই, চাল দিতে পারছি না এখন। শুকনা বিভিন্ন খাবার এখন আমরা কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি।’
লক্ষ্মীপুরে ১৮৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। এরই মধ্যে আশ্রয় নিয়েছে ১৫ হাজার মানুষ। তবে চরম আকার নিয়েছে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।